দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি সক্রিয় হতে পারে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী চারদিন এ প্রবণতা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় শক্তিশালী সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা সন্ধ্যার পর আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, ‘ঝুমুল’ নামে একটি প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় আজ থেকেই দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। এই বলয় আগামী ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় দেখা যেতে পারে।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে এবং রাতের দিকে তা আরও জোরদার হতে পারে। শুরুতে এই বৃষ্টিপাত সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে তা ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উজানের অঞ্চল যেমন মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এসব এলাকায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে, যা সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম।
২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকতে পারে। ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে এর তারতম্যও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।
অন্যদিকে, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং এপ্রিলের শেষদিকে আবহাওয়া তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির খবরকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এম