• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কক্সবাজারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে 


কক্সবাজার প্রতিনিধি মার্চ ২২, ২০২৩, ০৮:৪০ পিএম
কক্সবাজারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে 

কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে গেছে। ২০ বছর আাগেও এখানে সাদু পানি ছিল। নলকূপের পানি অত্যন্ত সুমিষ্ট ছিল।

এখন লবণাক্ততা ছাড়া কোনো নলকূপ পাওয়া যায়না, নেমে গেছে পানির স্তর। দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় গভীর নলকূপের পানি দিয়ে লবণ চাষ হচ্ছে। এ থেকে বুঝতে হবে আমাদের পানির স্তর ভালো নেই। সেটি চরমভাবে লবণাক্ততার শিকার।

বিশ্ব পানি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, ‘উপকূলের যে এলাকায় কখনও পানির সংকট হবে না বলে মনে করা হতো সেখানেও এখন নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে আর্সেনিক দূষণ, একদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অন্যদিকে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখনও কক্সবাজারকে আমরা পর্যটনের আইকন হিসেবে ভাবি। সারাবিশ্বে আমরা গর্ব করি। কিন্তু দেখা যাবে কেনা বোতলজাত পানি ছাড়া সাধারণ পানি কোথাও পাবেন না। কোনো হোটেল-মোটেলে সাধারণ পানি নেই। তারা নিজেরাও সংগ্রহ বা উৎপাদন করছে না, বিকল্প পানিরও ব্যবস্থা করছে না। এই কেনা বোতলের পানির উপর নির্ভর করতে গিয়ে একদিকে ব্যয় বাড়ছে, আর প্রত্যেকটি বোতল সাগরের পানিতে মিশে যাচ্ছে। ফলে দুই ধরনের পরিবেশের ক্ষতি আমরা করে ফেলছি।

সুমদ্র বিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রত্যেক হোটেল-মোটেলে পানি ‍উৎপাদন বা ধরে রাখার একটা ব্যবস্থা করা উচিত। তাতে বোতলজাত কেনা পানির চাহিদা কমবে। তিন মাস পানি যদি আমরা ধরে রাখি পরবর্তী ছয় মাস সেই পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকি ছয় মাস প্রকৃতির উপর নির্ভর করা যাবে। বিকল্প পানির উৎসের সন্ধানে আমাদের যেতে হবে।

দেশের ১৯ জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লবণাক্ত পানির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে ভূগর্ভে। এটি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের এখনই কোনো উপায় বের করতে হবে। একবার যদি লবণাক্ততা বেড়ে যায় সেখান থেকে পানির স্তরকে রক্ষা করা বা সহিষ্ণু পানিকে আবার স্তরে ফিরিয়ে আনা মানুষের সাধ্যের অতীত হয়ে গেছে।

অথচ আমাদের এই অঞ্চলটি সাদু পানির বিশাল ভান্ডার। বঙ্গোপসাগরে যে পরিমাণ সাদু পানি এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিশে পৃথিবীর কোনো স্থানের উপর দিয়ে এত সাদু পানি সাগরে যায়না। এই সাদু পানির ব্যবস্থাপনার দিকে আমরা নজর দিতে পারিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাসিবুল ইসলাম ও উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া, মো. তরিকুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী, কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমদ গিয়াস, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর কাশেম, সুলতান আল নাহিয়ান, মোছা. তানিয়া ইসলাম, সিরাজ উদ্দীন মো. বাবর চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান, সিনথিয়া তৌহিদী, মো. শিমুল ভূঁইয়া, মো. হানিফ বিশ্বাস, মো. হাসানাত আরেফিন, আহসান হাবীব নয়ন ও চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা রহমান।
 
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু শরীফ মো. মাহবুব-ই-কিবরিয়া। এসময় ইন্সটিটিউটের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সোনালীনিউজ/এআর

Wordbridge School
Link copied!