• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

পাঁচটি ইউনিয়নের দুর্ভোগের সঙ্গী একটি বাঁশের সাঁকো 


শফিক খাঁন, ভোলা  সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩, ০১:৪৩ পিএম
পাঁচটি ইউনিয়নের দুর্ভোগের সঙ্গী একটি বাঁশের সাঁকো 

ভোলা: প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগ একটি বাঁশের সাঁকো। যেখানে আতঙ্ক আর উৎকন্ঠাকে সঙ্গী করেই পথ চলেন পাঁচটি ইউনিয়নের পথিকরা।
 
যেখানে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষালয়ে যেতে আসতে আনন্দ বিলিয়ে  চলতেন সেখানে একটি সাঁকোই তাদের বিষাদের কারন। 

তবে বর্ষা মৌসুমে এখানকার কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটু স্বাচ্ছন্দ্যের রেশ ধরে। 
বর্ষা মৌসুমে খালটিতে প্রবল স্রোতের কারনে স্বেচ্ছাশ্রমের এই সাঁকোটি স্থির থাকতে পারেনা। 
আর তাই তখন তাদের পারাপারের সঙ্গী হয় ডিঙ্গি নৌকা।
 
বর্ষামৌসুমে এখানকার শিশু শিক্ষার্থীদের মা বাবাদের  সাঁকো পারের আতঙ্কতা একটু কম থাকে। তবে আতঙ্কতা কম থাকলেও শিশুরা খেঁয়া পার হয়ে কখন ফিরবে এমন অপেক্ষা দেড় যুগেও লাগব হয়নি তাদের। 

সাঁকো পার হবার দুশ্চিন্তা আর দূর্ভোগ কিচুতেই ছারছে না এই পাঁচটি ইউনিয়নে বসবাসকারী বাসিন্দাদের। 

পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি সাঁকো। তবে এই সাঁকোটি নির্মিত হয়েছে স্থানীয় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বেচ্ছায় শ্রম ও অর্থ দানের মাধ্যমে।

বলছিলাম  লেংগুটিয়া, শ্রিপুর, জাংগালিয়া, গোপালপুর, আলিমাবাদসহ ৫ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচল করার কাজীর চর খালের উপরের সাঁকোর কথা।  

ভোলা সদর উপজেলার ২নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কোলঘেষে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং আলিমাবাদ ইউনিয়নসহ ৬টি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম কাজির চর খালের উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করতে পারেনি এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দুই পাড়ের গ্রামবাসীরা মিলে স্বেচ্ছায় শ্রম ও অর্থকরি দিয়ে  কোনো ভাবে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করেন। 

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের সময় কাজিরচর খালটিতে প্রবল স্রোতেরধারা প্রবাহিত হবার কারনে সাঁকো ভেঙে যায়। তখন বর্ষামৌসুমে আর সাঁকো নির্মান করা সম্ভব হয়না বলে পার হতে হয় ডিঙ্গি নৌকায়।

বর্ষা কমে এলে আবার গ্রামবাসী মিলে কোনো ভাবে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করে সাঁকো। এভাবে চলছে বছরের পর বছর। ফলে বিভিন্ন সময় বাঁশ /গাছ ভেঙে খালে পড়ে যাওয়াসহ ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটেছে । একাধিকবার পারাপারে ঘটেছে শিশু শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনাও।

এই সাঁকোটি পার হয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয়, আলিমাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা, পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আসমানীয়া ডিগ্রি মাদ্রাসা,ভাষা শহিদ কলেজ,নাজিউর রহমান কলেজ সহ এলাকার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ নিয়মিত আসা যাওয়া করে।

এ বিষয়ে কাজিরচর গ্রামের রাজেকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। রাজেকুল পেশায় একজন জেলে  তিনি বলেন, আমরা দির্ঘবছর ধরে এই হাক্কা পার হয়ে ভয়ে ভয়ে চলছি। এখানে একটি ব্রিজ হলে হাজার হাজার পরিবারের উপকার হতো। 

এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে আলিমাবাদ মাদ্রাসাসহ আশপাশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কর্মচারী ও এখানকার একমাত্র বৃহৎ  বাজার মাঝকাজী ও হাওলাদার বাজারে আসা অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন যাতায়াত করে। কিন্তু এই সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাঁকো পারাপারে অনীহা প্রকাশসহ পড়াশোনা বঞ্চিত হচ্ছে অনেক  শিশুরা। পাশাপাশি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাও অনেকাংশে কমে গেছে। 

সাঁকোর একপ্রান্তে দেখা যায় অপেক্ষারত শিশু শিক্ষার্থী সিফাতের মা  লুৎফন নাহার, তিনি বলেন আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের সাঁকো পার করে দিয়ে মাদ্রাসায় পাঠাই ছুটির সময় হলে আতঙ্কে থাকি, আবার সাঁকোর কাছে এসে বসে থাকি ছেলে মেয়ে আসলে পার করে নেই। 

মাঝ কাজী বাজারে ডাঃ কুতুব উদ্দিন টগর এর দোকান থেকে শিশু সাওদার জন্য  ওষুধ নিয়ে ফেরা হাওয়ানুর  বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারায় যেন আমাদের এখানে একটি ব্রিজ হয় আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতে নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে আসতে পারে, আতঙ্ক মুক্ত থাকতে পারি।

আলিমাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক বাবুল বয়াতি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের যে উন্নয়নের ধারা চলমান রয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় কাজীরহাট বাজার সংলগ্ন কাজির চর খালের উপর দ্রুত একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এই ব্রিজটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, স্থানীয়দের স্বেচ্ছায় দেওয়া বাঁশ, গাছ ও টাকার সহায়তায় এই নড়বড়ে সাঁকো ব্যাবহারে প্রতিবছরই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনায় পতিত হয়। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সবুজ হাওলাদার বলেন আমার নির্বাচনীয় এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের এই সাঁকোটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সাঁকো। এ সাঁকো দিয়ে আলিমাবাদ ইউনিয়নসহ  ৫ টি ইউনিয়নের লোক যাতায়াত করে। আর প্রতি বছরই সাঁকো ভেঙ্গে পড়ে পথচারীরা গুরুতর আহত হয় এবং প্রানহানির মত ঘটনা ঘটে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মান করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

১০নং আলিমাবাদ ইউনিয়নের নবনির্বাচিত  চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পি  জানান, এখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। 

 বরিশাল (এলজিইডি)নির্বাহী  প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাঁকোর সমস্যা সমাধানে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিষ্ট দেয়া হয়েছে। তবে এই সাঁকোটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা জেনেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যাবস্থা করা হবে।

এমএস

Wordbridge School
Link copied!