• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

হারিয়ে যাওয়ার ২৫ বছর পর বাড়ি ফিরলের মাইদুল


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৩, ১২:৫৪ পিএম
হারিয়ে যাওয়ার ২৫ বছর পর বাড়ি ফিরলের মাইদুল

কুড়িগ্রাম : মায়ের সাথে ঢাকা গিয়ে হারিয়ে যান দুই ভাই। প্রায় ২৫ বছর পর ছোট ভাই মো. মাইদুল ইসলাম (৩০) ফিরে এসেছেন। তবে বড় ভাই মতিয়ার রহমান (৩৫) এখনো নিখোঁজ। মাইদুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে আনন্দে পুরো এলাকাবাসী।

মাইদুল ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার উত্তর সরকারটারি গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর মাইদুল ইসলামের আসার খবর পেয়ে তাকে দেখে আনন্দিত উৎসুক এলাকাবাসী।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের গোপালপুর উত্তর সরকাটারি গ্রামে ফিরে আসেন মাইদুল।খোঁ

জ নিয়ে জানা গেছে, মো. আব্দুস সামাদ ও মোসা. বানেছা বেগম দম্পতির দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও মতিয়ার রহমান। তাদের বয়স যখন ৫-৭ বছর তখন পারিবারিক দ্বন্দ্বে মাইদুল ইসলামের বাবা-মায়ের সম্পর্কের বিচ্ছিন্ন হয়। পরে অনত্র বিয়ে করেন বানেছা বেগম। পরে বানেছা বেগম মাইদুল ও মতিয়ার রহমানকে নিয়ে প্রথমে রংপুর পরে গাইবান্ধা শেষে ঢাকা চলে যান। ঢাকায় বানেছা বেগম দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে সংসার পাতলেও দুই ছেলের ঠাঁই হয় অন্যের বাড়িতে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় দুই ভাইকে। সেই থেকে দুই ভাই নিখোঁজ। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ছেলেকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন মা। তবে বাবার পরিবারের লোকজন আশা ছেড়ে দেয়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপন ঠিকানার সহযোগিতায় মাইদুল ইসলামকে খুঁজে পেয়েছে পরিবার। তবে বড় ভাই মো. মতিয়ার রহমানের সন্ধান মেলেনি।

মাইদুল ও মতিয়ারের বাবা আব্দুস সামাদের আশা—নিশ্চয়ই কোনো একদিন তার বড় ছেলেকেও খুঁজে পাবেন তিনি।

মাইদুল ইসলামের চাচা মো. বদিউজ্জামাল বলেন, মাইদুল ও মতিয়ার আমার ভাতিজা। ওরা দুজনে ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় ২৫ বছর আগে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে আমরা তাদের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে মাইদুলকে ফিরে পেলাম। আশা করি, কোনো একদিন মতিয়ারকেও খুঁজে পাব।

মাইদুল ইসলাম বলেন, মা আমাদের দুই ভাইকে অন্যের বাসায় রেখেছিল। সেখানে চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ির মালিক আমাদের দুই ভাইকে মারপিট করে বেঁধে রেখেছিলেন। পরে ওই বাড়ির মেয়ে আমাদের ছেড়ে দিয়ে বলে তোমরা দুজন চলে যাও। পরে আমি ভাইসহ ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে মাকে অনেক খুঁজেছি। মা কোথায় থাকত ঠিক মনে পড়ছিল না। ভাই আমাকে ছেড়ে মাকে খুঁজতে গিয়ে তাকেও হারিয়ে ফেলি।

তিনি আরও বলেন, আমার বড় আশা ছিল বাবা-মাকে ফিরে পাওয়ার, সাথে বড় ভাইকেও দেখতে পাব। বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরব। কিন্তু বাবা-মা কে পেলাম কিন্তু ভাই কোথায় জানি না। বাবা-মাকে ফিরে পেয়ে কি শান্তি পেয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

মাইদুল ইসলামের বাবা মো. আব্দুস সামাদ বলেন, আমার দুই ছেলেকে হারিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ওর মায়ের কাছে লোক পাঠিয়েছিলাম। একবার বলত ছেলে দুটো হারিয়ে গেছে। আবার বলে মারা গেছে। আমি প্রতিদিন নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছে। ছোট ছেলে মাইদুল, বউ মা মাহমুদা ও নাতিদের খুঁজে পেয়েছি। আল্লাহ যদি বড় ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়, আমার আর কোনো চাওয়া নেই।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার আহাম্মেদ বলেন, সন্তোষপুর ইউনিয়নে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর জানতে পেয়েছি। সেখানে আব্দুস সামাদ নামে এক বাবার দুই সন্তান হারিয়ে গেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এক ছেলে বাড়িতে ফিরে এসেছে। মাইদুল ইসলাম যদি চায় তাহলে সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় আনাসহ পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।

এমটিআই

Wordbridge School
Link copied!