• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

পাটগ্রামে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি গাছ নামমাত্র দামে নিলামে বিক্রি


পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি  নভেম্বর ৫, ২০২৩, ০৩:৪২ পিএম
পাটগ্রামে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি গাছ নামমাত্র দামে নিলামে বিক্রি

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কোটি টাকা মূল্যের সড়কের গাছ নামমাত্র দামে নিলামে বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব গাছ ন্যায্য দামে বিক্রি না হওয়ায় সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও কয়েকলাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে। বনবিভাগের দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ফায়দা লুটছে একটি চক্র।

জানা গেছে, বন বিভাগের ফরেস্ট্রী সেক্টর প্রকল্পের আওতায় ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের ললিতারহাট সড়ক, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সাপ্পারবাড়ী সড়ক এবং পাটগ্রাম ইউনিয়নের ডাওয়াইপাড়া আঞ্চলিক সড়কে গাছের চারা রোপন করা হয়। ওই সময় সরকারের পক্ষে বনবিভাগ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে ভূমিহীন, দরিদ্র, কৃষিশ্রমিকদেরকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্য নির্বাচিত করে। 

এ চারটি সড়কে লাগানো কৃষিজ, ফলজ, বনজ স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী এসব গাছের চারা দেখভাল করা ও মেয়াদ শেষে বিক্রয়ের ব্যাপারে নির্বাচিত উপকারভোগী সদস্যদের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে সরকারের বন অধিদপ্তরের পক্ষে রংপুর বিভাগীয় সামাজিক বনবিভাগ।  

২০ বছর হতে দেখভালের কাজে নিয়োজিত খোদ প্রকল্পের উপকারভোগী সদস্যরাই সড়কের এসব গাছ ন্যায্য মূল্যে বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে জেলা ও উপজেলার বনবিভাগের কর্মকর্তারা গাছ গুলোর দাম নির্ধারণ যথোপযুক্তভাবে করেনি। গাছ গুলোর দর যাচাই, চিহিৃত করা কোনোকিছুতেই স্থানীয় সুবিধাভোগীদের সম্পৃক্ত করেনি। এসব কারণে সদস্যরা ন্যায্য দাম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। 

একাধিক উপকারভোগী সদস্য জানান, বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় এক হাজার ৫ শ টি গাছ প্রায় ৭৩ লাখ টাকা দামে গত ২-৩ মাস আগে নিলামে বিক্রয় করা হয়। ৫৩ টি লট ভিত্তিক বিক্রয়কৃত গাছ গুলোর বাজার মূল্য দেড় কোটি টাকার উপরে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মধ্যে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, শিলকড়ই, শ্বেতকড়াই, রেইন্ট্রি, অর্জুন, মিনজিরি, গামার, কৃষ্ণচ‚ড়া, চম্পাফুল, জলপাই, রক্তচন্দন, বকাইন, শিশু, জারুল প্রভৃতি।  

চুক্তিনুযায়ী গাছ রোপনের ১০ বছর পর সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলার বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা, অংশীজন ও আঞ্চলিক কাঠ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দর কষাকষি পূবর্ক ন্যায্য বাজার দর নির্ধারণ করে নিলামে বিক্রয় করবেন বিভাগীয় সামাজিক বন বিভাগ। নিলামে বিক্রয়ের অর্থ বন অধিদপ্তর ১০%, ভ‚মির মালিকানা বা দখলী স্বত্বাধিকারী সংস্থা ২০%, উপকারভোগী ৫৫%, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ৫% ও বৃক্ষ রোপন তহবিল ১০% হারে বন্টন করার নিয়ম। 

গাছ নিলামে কিনেছেন নীলফামারী জেলার জলঢাকার আইনুল হক। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নিলামে ক্রেতার লোকজনেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছ কাটছেন। কম দামে কেনার ব্যাপারে গাছ কাটায় নিয়োজিত একাধিক প্রতিনিধি (নিলামে ক্রেতার) বা ব্যক্তির সাথে কথা বলতে চাইলে, কথা বলতে রাজি হননি। 

গাছ গুলোর নিলামে ক্রেতা আইনুল হক বলেন, ‘আমি তো একাই গাছ গুলো নিইনি। ১১ টি জায়গায় দরপত্র বিক্রয় হয়েছে। সরকারি দরের উপরে হলে নিলামে বিক্রি দেয়। প্রতিযোগীতা করে সরকারি দরের উপরে দর দিয়ে নেওয়া হয়েছে।’   পাটগ্রাম উপজেলা ফরেস্টার আব্দুর রহমান কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি।

সোনালীনিউজ/এম/এসআই
 

Wordbridge School
Link copied!