• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

আজ কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডিসেম্বর ৫, ২০২৩, ০১:০৬ পিএম
আজ কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম: আজ ৬ ডিসেম্বর। কুড়িগ্রাম হানাদারমুক্ত দিবস। একাত্তরের এ দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে পাকসেনাদের হটিয়ে কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও এ অঞ্চলে সেদিন উদিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সে মাহেন্দ্রক্ষণের কুড়িগ্রামের মুক্তিকামী মানুষের বিজয় নিশ্চিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৬ এবং ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল গোটা কুড়িগ্রাম অঞ্চল। শুধু ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী উপজেলা ছিল মুক্তাঞ্চল। সেখানেই চলত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। নভেম্বরের প্রথম থেকেই মিত্র বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণ তীব্র হতে থাকে। একে একে পতন হতে থাকে পাকসেনাদের শক্ত ঘাঁটিগুলো। মুক্ত হয় ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, উলিপুর উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকা। এরপর পাকসেনারা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে কুড়িগ্রাম শহরে। কুড়িগ্রামকে মুক্ত করতে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পড়ে পাকসেনারা। ৫ ডিসেম্বর থেকে মিত্র বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে পিছু হটতে শুরু করে পাকসেনারা। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৬ ডিসেম্বর। কুড়িগ্রাম হয় হানাদারমুক্ত। সেদিনের সেই মুক্তির কথা মনে পড়লে এখনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্মৃতিচারণ করেন তাদের অনুভূতিগুলোর।

কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মো. আবজাল হোসেন বলেন, আমাদের কাছে নির্দেশনা ছিল ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামকে হানাদারমুক্ত করতে হবে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা হানাদারমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। তারপর সাধারণ মানুষ আমাদের নিয়ে উল্লাস করেছে। সেই স্মৃতি বেঁচে থাকতে ভুলে যাব না।

৬ নম্বর সাব-সেক্টরে কোম্পানি কমান্ডার  মো. আবদুল হাই সরকার ( বীরপ্রতীক) জানান, আমি ৬ নম্বর সাব-সেক্টরে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধ করেছি। ৬ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামকে মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিকেল ৪টায় শহরে প্রবেশ করে নতুন শহরের ওভারহেড পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনার ওপর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলাম। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ মিছিলে মিলিত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ রাখতে বুধবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সোনালীনিউজ/এম/এসআই

Wordbridge School
Link copied!