ছবি : প্রতিনিধি
শরীয়তপুর: সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ১৭ ভারতীয় নাগরিক বন্দি রয়েছেন। পরিচয় নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তারা মুক্তি পেলেও নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত নির্ধারিত সাজা শেষ হলেও পরিচয় যাচাই ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় তারা বর্তমানে ‘রিলিজ প্রিজনার (আরপি)’ হিসেবে কারাগারে অবস্থান করছেন।
কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামে আরেক বন্দি ২০২৫ সালের ২৯ মে কারাগারে মারা যান। মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দীর্ঘ সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালে স্থানীয়ভাবে তাদের সৎকার করা হয়।
মরদেহ সংরক্ষণ ও সৎকার কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে কারাগারে থাকা ১৭ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং তিনজন নারী। ভাষাগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ করা কঠিন হচ্ছে। এছাড়া কয়েকজন বন্দি নিয়মিত খাবার গ্রহণ না করায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, “কারাগারে অবস্থানরত কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করছেন না এবং প্রয়োজনীয় পোশাকও পরছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব হবে।”
পিএস







































