ফাইল ছবি
ঢাকা: বাংলা কিউআর মার্চেন্ট সম্প্রসারণ ও নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে অফিস ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মেইলে এক বার্তা প্রেরণ করে এ আদেশ দেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার এই নির্দেশনা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত অফিস-পরবর্তী দাপ্তরিক কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালনের কারণে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতে ঈদের ছুটি একদিন বৃদ্ধি করা হলে তার পরিবর্তে আগেই একদিন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে টানা দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের পরিবর্তে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন-বিকল্প ছুটি বা অন্য কোনো সুবিধা থাকবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, প্রচলিত চাকরি বিধিমালা বা জনতা ব্যাংকের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাহী আদেশ বা খুদে বার্তার মাধ্যমে সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাধ্যতামূলক কর্মদিবস হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা কতটুকু রাখেন-এ বিষয়েও অনেক কর্মকর্তা স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন।
যদিও নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে অনেক শাখা ব্যবস্থাপক ও এরিয়া প্রধান সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নির্দেশনার পরিধি ও প্রয়োগ নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং বাংলা কিউআর কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন অবশ্যই সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পুরো দায়ভার কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিকল্প ছুটি, প্রণোদনা বা উপযুক্ত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত বলেও কর্মকর্তারা মনে করেন।
একটি আধুনিক, দক্ষ ও কর্মীবান্ধব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কর্মীদের অধিকার, বিশ্রাম ও কাজের ভারসাম্য নিশ্চিত করা। জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি কর্মীদের ন্যায্য অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এএইচ/পিএস























-20260722160634.jpg)















