ফাইল ছবি
খুলনায় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামেও পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর ছবি রয়েছে।
বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার রফিকুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর ফেসবুক আইডিতেও এই দলীয় পরিচয় দেওয়া আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ জুমার নামাজের কিছু আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লবণচরা থানার কাজীপাড়া বাজারে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত আকস্মিক সেখানে আসে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে রফিকুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আজ দুপুর সাড়ে ১২টার পর লবণচরা থানার প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তাঁর তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত রফিকুল ইসলাম বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তিনি মূলত পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় পুলিশ এখনো খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকেই দুর্বৃত্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
খুলনা মহানগরে বর্তমানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। এমন কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই প্রকাশ্যে জনাকীর্ণ বাজারে এ ধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসেই খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।
এসএইচ







































