ছবি : প্রতিনিধি
ফরিদপুর: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেছেন এক নারী। তবে জন্মের পর দুটি শিশু মারা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। তাদের মধ্যে তিনজন ছেলে ও দুজন মেয়ে। এর মধ্যে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে মারা গেছে।
নবজাতকদের বাবা মাহামুদুল হাসান ডলার ফরিদপুর সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের আবুল বেপারীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে মাহামুদুল হাসান ডলারের সঙ্গে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পরই চাঁদনী বেগম সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় এই দম্পতির মুখে হাসি ফুটেছিল। একপর্যায়ে জানতে পারেন চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলেও নির্ধারিত সময়ের ১২ সপ্তাহ আগে সন্তান প্রসব করায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবারটি।
মাহামুদুল হাসান ডলারের ভাই ইদ্রিস আলী বলেন, আমি বাচ্চাগুলোর চাচা। পাঁচজনের মধ্যে দুজন মারা গেছে। এখন দুই ছেলে ও এক মেয়ে জীবিত আছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার বলেন, বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম বাচ্চা প্রসব করেন। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি ৪টি বাচ্চা প্রসব করেন।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়াই বাচ্চাগুলো ২৮ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ৪০ সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করায় বাঁচ্চাগুলোর ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে রয়েছে। আবার কারও চোখ ফোটেনি, সবকিছু মিলে বাঁচ্চাগুলো অস্বাভাবিক বলা যায়। এছাড়া মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, তার রক্তের প্রয়োজন। বাচ্চাগুলোর দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, এখানে ৫টি বাচ্চার মধ্যে দুটি বাচ্চা আগেই মারা গেছে। বাচ্চাগুলো সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। জীবিত বাচ্চা তিনটির জন্য এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের এখানে এনআইসিইউ নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা জানিয়েছি, কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। এছাড়া আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।
পিএস







































