• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক, সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালালেন


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জুলাই ৩, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক, সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালালেন

ছবি : প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামাম উল হকের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে শহরের আরামবাগ মোড়ে অবস্থিত ‘চাঁপাই অ্যাপোলো হাসপাতাল’-এ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অফিস চলাকালে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ রোগী দেখে আসছেন ডা. ইনজামাম উল হক। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি যাচাই করতে হাসপাতালে অবস্থান নেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একজনকে রোগী হিসেবে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি এক হাজার টাকা ফি দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রামের সিরিয়াল নেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর মোটরসাইকেলে হাসপাতালে এসে আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষে প্রবেশ করেন ডা. ইনজামাম। তিনি রোগী দেখা শুরু করলে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় ক্যামেরা দেখে তিনি দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

সাংবাদিকরা তার পিছু নিলে ডা. ইনজামাম দাবি করেন, তিনি সেখানে নামাজ পড়তে এসেছিলেন। তবে জোহরের আজানের সময় আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষে তার উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে গিয়ে মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছে না। অথচ সরকারি দায়িত্ব পালন না করে চিকিৎসক যদি প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় চিকিৎসা পাবে—এ প্রশ্ন সবার।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, “সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডা. ইনজামাম আমার সঙ্গে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। এরপর তিনি কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “অফিস চলাকালে বাইরে প্র্যাকটিস করা কোনো চিকিৎসকের জন্যই সমীচীন নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

পিএস

Link copied!