প্রায় ২৫ ঘণ্টার অচলাবস্থার পর রাজশাহীর সঙ্গে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সোমবার রাত ৮টা থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস চলাচল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় শুরু হয়। দীর্ঘ সময় বাস বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
জানা গেছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অধিকাংশ শ্রমিক সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানালেও জেলা প্রশাসক নিজস্ব একটি কমিটির প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবিত কমিটিতে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি ওঠে।
জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরই জেরে সোমবার রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিরোধটি মূলত শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখি ও মোমিনুল ইসলাম মোমিনের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নূর আলম সিদ্দিকী মঙ্গলবার উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথক ও যৌথ বৈঠক করেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মোমিন গ্রুপের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নজরুল ইসলাম হেলালকে রাখা হবে না। জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সময়ে বাস টার্মিনাল পরিচালনার জন্য উভয় পক্ষের চারজন করে মোট আট সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।
এই সিদ্ধান্তে দুই পক্ষই সম্মত হয়ে সন্ধ্যায় বাস চলাচল শুরুর ঘোষণা দিলেও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শ্রমিক নেতা লিটন আলী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাস না চালানোর পক্ষে অবস্থান নেন এবং অনুসারীদের নিয়ে টার্মিনাল এলাকায় মাইকিং করেন। এতে বাস ছাড়তে আরও কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয়।
পরবর্তীতে লিটন আলীর পক্ষের সঙ্গেও সমঝোতা হলে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
লিটন আলী বলেন, “আমজনতাকে বোঝাতে কিছুটা সময় লেগেছে। সে কারণেই গাড়ি ছাড়তে দেরি হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “রাতে আবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। আপাতত বাস চলাচল শুরু হয়েছে।”
প্রায় একদিনের অচলাবস্থার অবসান হলেও শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে প্রশাসন। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্থায়ী সমাধানেরও প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
এম







































