সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা করেছে অর্থ বিভাগ। বৈঠকে বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এর আর্থিক প্রভাব এবং বাজেট ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছে সংস্থাটির প্রতিনিধি দল।
রোববার আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে। বৈঠকে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাস থেকেই ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এটি কতটি ধাপে এবং কী হারে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আইএমএফ কোনো ধরনের পরামর্শ বা আপত্তি জানায়নি। বরং এটি বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় এবং বাজেটের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়েই তারা বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য কোনোভাবেই ঋণ নেওয়া নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো শর্তে আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচিতে সরকার যাবে না। নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দিনের শুরুতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নেওয়ায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
সরকার বর্তমানে তিন বছর মেয়াদি নতুন একটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফের কাছ থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার অর্থায়ন পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হবে।
এর আগে গত ৯ জুন আইএমএফকে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমান বাস্তবতা অনেকটাই বদলে গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সরকার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার এগিয়ে নিতে চায়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করেছিল তৎকালীন সরকার। পরে ২০২৫ সালের জুনে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ দফায় ৩৬৪ কোটি ডলার পেলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে কর্মসূচিটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়।
গতকালের বৈঠকে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এম







































