ছবি : প্রতিনিধি
পিরোজপুর: পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সমিতির ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মো. মুসা মহাজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী এলাকার খোকন মহাজনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন—পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) ফাহাদ হোসেন, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএ্যান্ডএম) তানজিম আল মাহমুদ, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন, মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ইমন খান, মিটার রিডার জিসান দেওয়ান ও লাইন টেকনিশিয়ান জাকির হোসেন।
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (আইটি) ফাহাদ হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে মো. মুসা মহাজন (৪০), সজিব মহাজন (৩০), নিজাম উদ্দিন মহাজন (৪০), আখি (৩০) ও রোকেয়া বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কালিকাঠী এলাকায় মুসা মহাজন ও সজিব মহাজনের বাড়িতে মিটারের সার্ভিস তার বাইপাস করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি দল সেখানে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দলটি অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মুসা মহাজনের হাতে থাকা লাঠির আঘাতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে বাদী ফাহাদ হোসেনকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ইমন খান তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তার মাথার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান।
এ সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা আশপাশের আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে ডেকে এনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর ও হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে আহত ইমন খানকে উদ্ধার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাড়িতে করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আহতরা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। ইমন খান ইমুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার শিকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রোধে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা কালিকাঠী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে যান। এসময় গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই, সার্ভিস তারে ছিদ্র করে সেখান থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা শনাক্ত করার পর ওই গ্রাহক আশপাশের লোকজনকে অন্যভাবে বুঝিয়ে বলেন, আমরা নাকি তার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়েছি। আমরা যথেষ্ট পরিমাণ ডকুমেন্ট দেখিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই তা মানতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে তারা লাঠি, বাঁশ ও দা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা শুরু করে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আরেক কর্মচারী ইমন খান বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনায় আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের ডাকাত বলে লোকজন ডাকাডাকি করতে থাকেন। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা আবার বলছিলেন, ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না, বারবার লোডশেডিং হয়—এসব কথা বলে হামলা শুরু করেন। মারধরের সময় আমার ঘাড় ও পিঠে আঘাত লাগে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করে।
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেন বলেন, শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আমাদের অফিস থেকে একটি দল সেখানে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কিছু লোক একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আমাদের আরেকটি দল ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মুসা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পিএস







































