ছবি: সংগৃহীত
চোখের সামনে সোনার ফসল নিয়ে নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। কৃষকের হাহাকার আর আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চরের আগুনেরচর গ্রামের আকাশ-বাতাস। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অন্যতম একটি শাখা দশআনী নদী। এই নদীর করাল গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। আবাদি জমি হারিয়ে দিশেহারা নতুন এই 'আগুনেররের' কৃষকরা এখন ভাগ্যকে দোষারোপ করা ছাড়া আর কিছু করার ক্ষমতা রাখছে না। অথচ স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) একাধিকবার পরিদর্শন করলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সরজমিনে আগুনেরচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে নিজেদের আবাদি জমির তলিয়ে যাওয়া দেখছেন কৃষকরা। ধান, মরিচ, বেগুন, পাটসহ বিভিন্ন ফসলে ভরা জমিগুলো মুহূর্তের মধ্যেই নদীর বুকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ নদীর পাড় থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছেন, কেউবা নীরব বেদনায় চোখের জল ফেলছেন।
স্থানীয় কৃষক ছনু মিয়া জানান, তার ৪ বিঘা আবাদি জমি ছিল। কিন্তু নদীর ভাঙন শুরু হওয়ায় তার অধিকাংশ জমাজমি নদীর ভাঙনে বিলিন হয়েছে। নিজের মায়ের কবরটি পর্যন্ত নদীতে বিলীন হয়েছে।
আরেক কৃষক মন্তা আলী বলেন, "এমপি-ইউএনও আইসা দেখছে, ছবি তুলছে, কিন্তু কোনো কাজ হয় নাই। তারা বলছে, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় নাই। আমাদের সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।"
নদী ভাঙনের ফলে এই গ্রামের অনেকেই এখন অন্যের জমিতে কামলা খেটে বা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের সন্তানদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে এই নদী ভাঙন রোধ করতে হবে। নদী পাড় বেঁধে দেওয়া, সিসি ব্লক স্থাপন করা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এবং এমপিকেও জনদুর্ভোগ লাগবে এগিয়ে আসার জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. জুবায়ের জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি অবগত আছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
তবে কৃষকদের হতাশা আর হাহাকার বলছে, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। নদীর করাল গ্রাস থেকে আবাদি জমি ও বসতভিটা রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। না হলে, এই 'আগুনেরচরের' কৃষকদের জীবনও নদীর স্রোতে হারিয়ে যাবে।
এসএইচ







































