• ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ঈশ্বরদীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি ভাতার তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ঈশ্বরদীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি ভাতার তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি

বনার ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সরকারি সম্মানি ভাতার তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দীঘা ফুটবল মাঠসংলগ্ন জান্নাতুন নূর জামে মসজিদের এ তালিকায় প্রকৃত ইমামকে বাদ দিয়ে পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষকে ইমাম দেখানো হয়েছে। এছাড়া মুয়াজ্জিন ও খাদেম পদে দায়িত্ব পালন করেন না এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারা দেশে মসজিদের ইমামদের মাসে ৫ হাজার, মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার এবং খাদেমদের ২ হাজার টাকা করে সম্মানি দেওয়ার জন্য তালিকা চাওয়া হয়। ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা অনুযায়ী সাহাপুর ইউনিয়নের ওই মসজিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী, মসজিদটির প্রকৃত ইমাম মাওলানা আজিবার হোসেনের নাম বাদ দিয়ে পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম পিন্টু প্রামাণিককে ইমাম হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুয়াজ্জিন পদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক আনজারুল সরদার এবং খাদেম পদে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত আতিয়ার রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ইউপির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তারা জানান, ইমাম আজিবার হোসেন আগে থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাতা পান এবং মসজিদটিতে স্থায়ী কোনো মুয়াজ্জিন বা খাদেম নেই।

অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকবর মোল্লা বলেন, প্রকৃত ইমাম আগের ভাতা পাওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে কোষাধ্যক্ষের নাম দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী মুয়াজ্জিন বা খাদেম না থাকায় ভাতা পেয়ে মসজিদের তহবিলে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এদিকে কমিটির সভাপতি হামিদ মোল্লা ঢাকায় থাকায় বিষয়টিতে নিজের অজ্ঞতার কথা জানান। সাহাপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মহাবুল ইসলাম ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ইমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস জানান, কমিটি প্রস্তুতকৃত তালিকাটি পরিষদে জমা দেওয়ার পর তা উপজেলায় পাঠানো হয়েছে, তাই এর ভেতরের অনিয়ম সম্পর্কে তারা অবগত নন।

পাবলিক ফান্ড অপচয় রোধে স্থানীয়রা অবাস্তব এই আবেদনটি বাতিল করে অন্য কোনো যোগ্য মসজিদকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, ইউপি প্রেরিত এ তালিকার অনিয়মের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচ 

Link copied!