ছবি: সংগৃহীত
হাজার হাজার একর ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজ। কিন্তু সেই ব্রিজের নিচে মাটি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসন প্লট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নজুড়ে।
কেন্দুয়া ইউনিয়নের সুইচগেট এলাকার পাশে রাইস মিল সংলগ্ন স্থানটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র বছরখানেক আগে জামালপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বহু কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। তবে বর্তমানে সেই ব্রিজের প্রটেকশন খুঁটিগুলো ভেঙে ফেলে পুরো নিচের অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা দেবব্রত নাগ মধু ও পৌরসভার একজন কর আদায়কারী মিলে এই ব্রিজ ভরাট করে বাণিজ্যিক প্লট তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। আর ক্ষমতার রদবদলের মাঝে এই কাজের সমন্বয় ও সরাসরি বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির একজন নেতা। ফলে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হলেও নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে একজোটে মাঠে নেমেছেন তারা।
ব্রিজটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগামী বর্ষা মৌসুমে আশেপাশের হাজার হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ফসলহানির পাশাপাশি পুরো এলাকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রায় এক মাস আগে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও তিনি রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছেন। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। সরকারি কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস ও কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ ভরাট বন্ধ করে ব্রিজটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এসএইচ







































