• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রংপুর বিআরটিএ: টাকা ছাড়া মেলে না ড্রাইভিং লাইসেন্স


আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো  নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
রংপুর বিআরটিএ: টাকা ছাড়া মেলে না ড্রাইভিং লাইসেন্স

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুর: রংপুর বিআরটিএ কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানেও বেরিয়ে এসেছে অনিয়মের নানা চিত্র। গাড়ির ফিটনেস, লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গেলো ভোগান্তির বিস্তর অভিযোগ সেবা নিতে আসা মানুষদের। টাকা ছাড়া হচ্ছে না কোন কাজ। কথিত ড্রাইভার রশিদ, মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান কে দিয়ে বাইকের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে সহকারি পরিচালক শফিকুল আলম হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। ফলে প্রতিনিয়তই বেড়েই চলছে দালালের দৌরাত্ম্য। 

রংপুর বিআরটিএ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। ঘুষ বাণিজ্য এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরটিএ কার্যালয়ের দাপ্তরিক কাজেও দালালদের ব্যাপক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে, যা সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। 

সুনির্দষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স বায়োমেট্রি ১১০ নং কক্ষে ঢুকতেই দেখা মিলে এই দালাল চক্রের। সরকারি দাপ্তরিক কাজে কর্মকর্তা চেয়ারে বসেই দালাল চক্রের সদস্য সাকিব তিনমাস থেকে নিচ্ছেন ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিঙ্গারপ্রিন্ট। পাশের চেয়ারে বসে আছেন ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের ইনচার্জ শাজাহান সরকার। দালাল চক্রের সদস্য সাকিব এর অপকর্মের কথা অস্বীকার করে ক্যামেরা দেখেই তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যান তিনি।  
  
অনুসন্ধানে ধরা পড়ে বিআরটিএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট কক্ষে দালাল চক্র। তড়িঘড়ি করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিঙ্গারপ্রিন্টের কক্ষ থেকে বেরিয়ে বিআরটিএ সহকারি পরিচালকের অফিস কক্ষে আশ্রয় নেন দালাল চক্র সাকিব। পরে কৌশলে দালাল চক্রকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন সহকারি পরিচালক শফিকুল আলম সরকার। 

রংপুর বিআরটিএ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে আশা মাহমুদুল হাসান বলেন,আমার মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য যে সকল কাগজ পত্র ওকে শোরুম থেকে গাড়ি কেন। তারপরও পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরেও যখন এডি কোন কিছু করতে পারল না তখন বলল গাড়িটা রেজিস্ট্রেশন করতে আপনাকে এফিডেভিড করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সব কাজ করতে তার পছন্দের লোককে দেখিয়ে দেন সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার। তার পছন্দ মত কাজ না করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন তিনি।  আমরা আপনার মাধ্যমে দালাল চক্রের শাস্তি চাই।  

রংপুর বিআরটিএ সহকারি পরিচালক সফিকুল আলম সরকার ও পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বানিয়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। ঘুরে বেড়ান দামি গাড়িতে। অথচ এরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মদদ দাতা। ৫ই আগস্ট এর পর। বিভিন্নভাবে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেটের আখড়া। টাকা ছাড়া কোনোভাবেই মিলছে না ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাইকের রেজিস্ট্রেশন  ও ফিটনেস।  

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা আর এক ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন বলেন,আমরা এখন নিরুপায় আমরা কোথায় যাব আমার বিশ্বাস সরকার একটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিবেন তাতে উনাদের কিছুদিন জেল হয় বিআরটিএ গরিব মানুষ এত টাকা কোথা থেকে তাদেরকে ঘুষ দিয়ে কাজ করবে। তাই সরকারের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস দ্রুত তদন্ত করে যারা কর্মকর্তা এবং কর্মচারী সবাইকে ঝাড়ু দার বানায় দেন। আমাদের সামন দিয়ে দালাল চক্র দৌড়ে পালিয়েছে। এইসব দালালকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করিয়ে সাধারণ গ্রাহককে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই এইসব দুর্নীতিবাজ অফিসের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।  

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি অফিসে দালাল দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করায় আমাদের বিভ্রান্তে পড়তে হচ্ছে। এতে করে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। দিনের পর দিন ঘুরিয়ে কাজ না করে দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।

দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএ বিভিন্ন সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেবাগ্রহীতা দের সাথে খারাপ আচরণ করে শফিকুল আলম সরকার একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন,যার শিকার হয়েছেন সাধারণ পরিবহন মালিক ও চালকেরা। বিশেষ করে বাস মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।   

এদিকে,কথিত ড্রাইভার আব্দুর রশিদ ও উচ্চমান সহকারি রবিউল ইসলাম, ডিজিটাল নাম্বার প্লেটের রিচার্জ শাজাহান সরকার, মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান কে দিয়ে সন্ধ্যার পর রাত পর্যন্ত রংপুর জেলার বিভিন্ন বাইক শোরুমের ম্যানেজার এর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বাইকের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। 

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী রংপুর সার্কেলে গাড়ি চালানোর জন্য কোন ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কথিত ড্রাইভার আব্দুর রশিদ কে দিয়ে চালানো হচ্ছে গাড়ি। অফিসের ভিতরে সমস্ত দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যায় কথিত রশিদকে। এমন দৃশ্য দেখলে মনে হয় সে ওই অফিসের বড় কর্মকর্তা।

কথিত ড্রাইভার আব্দুর রশিদ বলেন, মাস্টার রোলে চাকরি করি। বেতন নেই বিআরটিএ বিভাগীয় কার্যালয় থেকে। 

দালাল চক্র সাকিব বলেন, ১১৫ নং কক্ষে উচ্চমান সহকারী রবিউল ইসলাম, ১১৬ নং কক্ষে সহকারি পরিচালক শফিকুল আলম সরকার স্যার আমাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এজন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হচ্ছে।  

এছাড়াও বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।  

অফিসের পাশে কম্পিউটার দোকানে তার পছন্দ মত দালাল চক্র কে দিয়ে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ড্রাইভিং লাইসেন্স কন্টাক করে করিয়ে দেন। সাম্প্রতিক তার কল রেকর্ড আছে দালাল ও পরিদর্শক ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয় টাকা নিয়ে আলোচনা করার। একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ওই পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। টাকা না দিলে তার সাথে একই ভাবে খারাপ আচরণ করে তার অফিস পক্ষ থেকে বেড়ে বের করে দেন।    

রংপুর বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান এর অফিস কক্ষে কম্পিউটারে যাবতীয় কাজ দীর্ঘদিন থেকে দালাল চক্র সাকিব কে দিয়ে করিয়ে নেওয়ার কথা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এসবের কিছুই জানিনা যা কিছু এডি স্যার জানে।  কখন কোন চেয়ারে কে কাজ করবে তিনি সবকিছু ঠিক করে দেন। আমার কাজ হচ্ছে পরীক্ষা নেয়া। ফাইলপত্র পাস করার দায়িত্ব এডি স্যারের।    

রংপুর বিআরটিএ সহকারি পরিচালক শফিকুল আলম সরকার দালাল চক্র দিয়ে সরকারি দাপ্তরিক কাজ করিয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন সাকিবকে আমি আগে থেকে চিনি। বিয়ে টিয়ে অনেক কাজের চাপ। হয়তো এই কাজের চাপে বসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছে। তবে
কাজের চাপের ফাঁকে কে বা কাহারা ঔ চেয়ারে বসে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছে এটা আমার জানা নেই। 

রংপুর বিআরটিএ উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার দেবনাথ,সরকারি অফিসে দাপ্তরিক কাজ দালাল দিয়ে করার কোন সুযোগ নেই। সরকারি গাড়ি চালানোর জন্য কোন ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সরকারি দাপ্তরিক কাজে দালালচক্র চেয়ারে বসে কেন কাজ করছে এর জবাব সরকারি পরিচালক দিবে। কারণ বিষয়টি তার দায়িত্বে। তবে কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে এবং এই দালাল চক্রের সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

দীর্ঘদিন থেকে রংপুর বিআরটিএ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং ঘুষ ছাড়া মিলছে না ড্রাইভিং লাইসেন্স। প্রশাসনের কাছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিআরটিএ সেবার মান নিশ্চিত করার দাবি রংপুরবাসীর।  

এসআই

 

Link copied!