• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা


শরীয়তপুর প্রতিনিধি অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে মামুন শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মামুন শেখ ওই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মামুন শেখের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল শেখ ও মালেক শেখের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর বিরোধপূর্ণ একটি জমি মামুন শেখের পরিবার ফিরে পায় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, জমির আইলের পাশে তিনি পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারের সময় তার মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল বলে পরিবারের দাবি।

মামুন শেখের বড় ছেলে রাকিব জানান, সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি মডেরহাট বাজারে যান। সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের একটি জমি আবুল শেখ ও মালেক শেখ জোর করে দখল করে নিয়েছিলেন, যা পরে মীমাংসার মাধ্যমে তারা ফিরে পান। ওই জমিতে কীটনাশক দিতে গিয়েই তার বাবা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহতের স্ত্রী আসমা বেগমও অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল ও মালেক বিভিন্ন সময় তার স্বামীকে মারধরের চেষ্টা করেছেন। তাদের আঘাতেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি এর সুষ্ঠু বিচার চান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবুল শেখ। তিনি জানান, জমিটি অনেক বছর আগেই তারা কিনে নিয়েছিলেন এবং কয়েক দিন আগে মামুন সেটি জোর করে দখল করেন। সকালে তিনি নিজ কর্মস্থল মৎস্য অফিসে চলে যান এবং পরে খবর পেয়ে আসেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক গাজী মোহাম্মদ নাহিদুস সালাম জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসিজি করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচ 
 

Link copied!