ছবি : প্রতিনিধি
ঢাকা: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার।
তিনি বলেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ক্যাশ সরবরাহে সাময়িক সময় লাগতে পারে, তবে টাকা দেওয়ার জন্য ব্যাংক পুরোপুরি প্রস্তুত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনকালে তিনি একথা বলেন।
আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ব্যাংকের প্রতিটি শাখার কর্মী গ্রাহকদের হাসিমুখে সেবা দিতে প্রস্তুত। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরে যাবেন না।
তিনি বলেন, নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং আমানত জমা হওয়া শুরু হয়েছে। এটা গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার বড় একটি লক্ষণ। গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এমডি বলেন, ‘ওয়ার রুম’ কনসেপ্ট তৈরি করে খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যাংকের প্রায় ১৬ হাজার কর্মী এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের ফলে অনেক ঋণগ্রহীতা পুনঃতফসিলের আওতায় আসা এবং ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসছেন।
ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং ব্যাংক সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ থেকে। ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের টাকা আজ থেকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শাখাগুলোতে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হয়। ছয় দিনে ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার থেকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও কার্যক্রম বাস্তবে শুরু হয়েছে আজ থেকে।
এএইচ/পিএস







































