• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

ছোট্ট মশার কামড়ও হতে পারে ভয়ংকর


নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১৮, ২০২২, ১১:৪০ এএম
ছোট্ট মশার কামড়ও হতে পারে ভয়ংকর

ঢাকা : আকার আকৃতিতে ছোট হলেও পৃথিবীর ভয়ংকর ও এবং বর্তমানে আতঙ্কময় প্রাণীর নাম মশা। একটা ছোট্ট মশার কামড়ও ভয়ংকর হতে পারে। মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, জিকা ভাইরাস ও হলুদ জ্বরের মতো মারাত্মক বিভিন্ন রোগ হয়। নানারকম রোগ ছড়ানো আর মানুষকে বিরক্ত করাই যেন মশার কাজ। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে মশার কারণেই মৃত্যু হয় সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের। 

কীটতত্ত্ব নিয়ে বাংলাদেশে যে কজন গবেষক আছেন, তাদের একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ আলম। ৪২ বছর শিক্ষকতার পর ২০১৬ সালে অবসরে যান।

২০০০ সালে যখন বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ দেখা দেয়, তখন এই রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন এই অধ্যাপক। প্রচারপত্র ছাপিয়ে বিলিও করা হয়েছিল নগরীতে। 

ড. শাহ আলমের মতে, মশা নিয়ে বিশেষত এডিস মশা নিয়ে গবেষণাকে রাষ্ট্র খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। অথচ ৫০ বছর আগে ১৯৭০ সালেই ঢাকায় এই রোগের বাহক হিসেবে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছিল। 

গবেষণার ওপর জোর দিয়ে এই মশা নির্মূলের জন্য যদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হতো, তাহলে বাংলাদেশে এই ‘ক্রাইসিস পিরিয়ড’ তৈরি হতো না। ডেঙ্গু সংক্রমণের পর চিকিৎসার চেয়েও এডিস মশা মোকাবিলা বেশি জরুরি বলেও মত দিয়েছেন এই গবেষক।

প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে দেয় এমন সব মশা মারা যাবে : মশাদের বংশ কি একেবারে ধ্বংস করা সম্ভব? এর জবাব হবে ‘না’। একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ বিজ্ঞানের কোনো শাখায়ই পৃথিবী সব মশা মেরে ফেলার মতো কোনো অস্ত্র তৈরি হয়নি। তবে মশা নিধনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই আশাবাদী। নিত্যনতুন সব পদ্ধতি আসছে মশা নিধনের। ব্যাকটেরিয়া ছিটিয়ে দিয়ে মশার বাসস্থান নষ্ট করে দেওয়ার একটি পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। 

অপর এক মশা নিধনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে, যেখানে প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে দেয় এমন সব মশা মারা যাবে। মশা মারার জন্য ডিডিটি ও এর মতো শক্তিশালী কিছু কীটনাশক জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় অনেক দেশে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে। এসব শক্তিশালী কীটনাশক ছাড়া মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণই কঠিন, সেখানে মশা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার চিন্তাই করা যায় না। 

জানাগেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক স্থানে মশা পুরোপুরি দূর করার চেষ্টা চালানো হলেও শেষমেষ টিকে থাকার লড়াইয়ে মশারাই জয়ী হয়। বিভিন্ন গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৫০-৬০ দশকে মশা দূর করতে লাতিন আমেরিকায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাপক হারে ডিডিটিসহ বিভিন্ন শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করা হয় পুরো মহাদেশে। কিছু সময়ের জন্য মশা দূর হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে মশা ফিরতে শুরু করে। ধারণা করা হয়, সেখানকার মশা দূর হলেও এশিয়া বা আফ্রিকার জাহাজ থেকে আবার মশা ফিরে আসে। 

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মত, কোনো দেশ বা শহর কর্তৃপক্ষ যতই কীটনাশক ব্যবহার করুক না কেন, কিছু মশা রয়েই যায়। আর ওই মশা থেকে আবার বিপুল পরিমাণ মশা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়সের মশক নিধন কর্মসূচির কর্মকর্তা রজার এস নেস্কির মতে, পৃথিবীর সব মশা মেরে ফেলা অসম্ভব কাজ।

বিশ্ব মশা দিবস : আমাদের অনেকেরই জানা নেই ২০ আগস্ট ‘বিশ্ব মশা দিবস’। ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপের কারণেই এবার বিশ্ব মশা দিবস নিয়ে বাংলাদেশ তৎপর হয়েছে। এর আগে এই দিবস স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান কিংবা স্বাস্থ্য প্রশাসন কোনো তৎপরতাই চালায়নি। তাই এই দিবসটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুটেও পরিচিত নয়। 

১৯৩০ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়। ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রস। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি পরে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। তার সম্মানে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি পালন শুরু করে। ডেঙ্গুর মহামারির কারণে বাংলাদেশে সম্প্রতি মশা বিষয়ে ব্যাপক আতঙ্কের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এরই মধ্যে ২০ আগস্ট মশা দিবস হওয়ার কারণে বাংলাদেশে এই প্রথমবার বিশ্ব মশা দিবস পালিত হয়। 

গবেষকদের মতে, প্রতিবছর প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ মশাবাহিত রোগে মারা যায়। সে কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই দিবস পালনে আনুষ্ঠানিকতা বাড়ছে।

মশা দিয়েই মশাবাহিত রোগ থেকে মুক্তি : যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক জানিয়েছেন, তারা মশা না মেরে মশাবাহিত রোগ থেকে মানুষজাতিকে রক্ষার এক অভিনব কৌশল আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে। রোগবাহী মশা যাতে নতুন করে প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নতুন বংশধর জন্ম দিতে না পারে সেজন্য প্রজনন নিষ্ক্রিয় পুরুষ মশাকে কাজে লাগাতে চান। এই প্রক্রিয়ায় যদি সত্যি সত্যি পর্যাপ্ত সংখ্যক নিষ্ক্রিয় পুরুষ মশাকে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে প্রবেশ করিয়ে দেয়া যায় তাহলে মশার স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। মশার প্রজনন ক্ষেত্রে থাকা প্রজননক্ষম পুরুষ মশারাও তখন খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না। নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির ওই বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়ায় সাফল্য লাভ করলেও অনেকেই এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। 

কারণ এই প্রক্রিয়ায় ল্যাবে কি পরিমাণ নিষ্ক্রিয় মশা তৈরি করা যাবে এবং এই মশাদের প্রজনন ক্ষেত্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। জার্নাল অব ইনসেক্ট সাইন্সে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

বিশ্ব মশা দিবসের পেছনের কাহিনী : ১৮৫৭ সালের কথা। ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাহাড়বেষ্টিত একটি শান্ত নগরী। সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন রোনাল্ড রোস। তার বাবা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতীয় আর্মিতে কর্মরত ছিলেন। শৈশবের কিছুকাল কাটে ভারতের মাটিতেই, তবে আট বছর বয়সে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে পড়াশোনার পুরোটাই করতে হয়েছে ইংল্যান্ডে। নিজে যদিও লেখক হতে চেয়েছিলেন; কিন্তু বাবা জোর করে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। লেখাপড়ায় তার তেমন মন ছিল না, বেশিরভাগ সময় কাটত গান-কবিতা লিখে আর খেলাধুলা করে। ডাক্তারি পাস করে ১৮৮১ সালে জন্মস্থান ভারতে এসে প্র্যাকটিস শুরু করেন। 

১৮৯৪ সালের কথা, তৎকালীন ভারতে ম্যালেরিয়ার প্রচণ্ড প্রকোপ। ছুটিতে ঘুরতে আসেন লন্ডনে, এসে দেখা হলো আরেক লিজেন্ড স্কটিশ গবেষক স্যার প্যাট্রিক ম্যানসনের সঙ্গে। প্যাট্রিক গুরুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে রোসকে ম্যালেরিয়ার গবেষণা সম্পর্কে ধারণা দেন। শিষ্যকে বলেন, ভারতবর্ষই ম্যালেরিয়া গবেষণার উপযুক্ত স্থান। এটা নিয়ে কাজ করো। ওস্তাদের কথা শুনে পরের বছরই ভারতে চলে আসেন রোস। নেমেই সোজা হাঁটা দেন বোম্বে সিভিল হসপিটালের দিকে, খুঁজতে থাকেন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী। 

কিন্তু বিধিবাম, সরকারি চাকরি, তাকে পোস্টিং দেওয়া হল বেঙ্গালুরুতে” কলেরা নিয়ে গবেষণা করার জন্য। সেখানে এত বেশি ম্যালেরিয়ার রোগী নেই। কিন্তু মাথায় যে তার ম্যালেরিয়ার পোকা ঢুকেছে। একদিন একটি মশার পেটের রক্ত পরীক্ষা করে পেলেন ম্যালেরিয়ার জীবাণু। ইন্টারেস্টিং বটে তবে প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

তাকে আটকিয়ে রাখা গেল না। নিজেই সংগ্রহ করলেন মশার লার্ভা, সেখান থেকে বিশটি তরতাজা মশাকে ফুটিয়ে বের করলেন। হোসেন নামের এক ব্যক্তির শরীর থেকে সেই মশাগুলোকে রক্ত খাওয়ালেন। 

উল্লেখ্য, হোসেন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিল আর প্রতি মশার কামড়স্বরূপ সে পেয়েছিল এক আনা করে, সর্বমোট বিশটি মশার কামড় ও বিশটি আনা উপার্জন। রোস এই মশার পেটে ম্যালেরিয়ার জীবাণু কনফার্ম করলেন, সেটি ছিল আগস্ট ২০, ১৮৯৭ সাল। মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখতে কি গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার। 

২১ তারিখেই তিনি কনফার্ম করেন, এই জীবাণু মশার পেটেই বড় হয়। তার এই আবিষ্কার ১৮৯৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি শিরোনামে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়। 

এরপরের বছর অর্থাৎ ১৮৯৮ সালে তাকে কলকাতায় প্রেসিডেন্সি মেডিকেলে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি একটি গবেষণা টিম গঠন করেন। রোস দেখতে পেলেন ম্যালেরিয়া ট্রান্সমিশনের জন্য মধ্যবর্তী একটি হোস্ট প্রয়োজন আর সেটিই হচ্ছে মশা। 

আবিষ্কার করলেন, মশার লালাগ্রন্থ থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। প্রমাণ করলেন, ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী মশা সুস্থ পাখিকে কামড়িয়ে দিলে সেটিও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এতে করে ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্র উন্মোচিত হলো। 

১৮৯৭ সালের আজকের এই দিনে রোনাল্ড রোস আবিষ্কার করেছিলেন যে, ম্যালেরিয়ার জীবাণু স্ত্রী মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আজকের এই দিনটি বিশ্ব মশা দিবস। উল্লেখ্য, তিনিই প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক যিনি এই আবিষ্কারের ফলস্বরূপ ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার পান।

এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন : ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশ হ্রাস করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরা নতুন এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। 

সম্প্রতি কমিশনের গবেষণাগারে জীবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীদের এ উদ্ভাবনী পরিদর্শন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। পরিদর্শন শেষে বিজ্ঞানীদের নতুন এ উদ্ভাবনী দেখে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

এ সময় মন্ত্রী শিগগির এই পদ্ধতিটি মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। 

উদ্ভাবিত পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা মন্ত্রীকে জানান, ডেঙ্গু নিরসনে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক (এসআইটি) পদ্ধতির প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 

এসআইটি পদ্ধতিতে পুরুষ এডিস মশাকে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ করা হয়। পরে পুরুষ এডিস মশাকে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। এতে সেটি স্ত্রী এডিস মশার সঙ্গে মিলিত হলে স্ত্রী এডিস মশা যে ডিম বা লার্ভা নির্গত করবে তা থেকে এডিস মশার বংশবিস্তার হবে না। ফলে ওই ডিম বা লার্ভা নিষিক্ত না হলে মশার পরিমাণ কমতে থাকবে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি বলে জানান বিজ্ঞানীরা। 

বলা হয়েছে, এটি একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। তাই পরিবেশে এর কোনো বিরূপ প্রভাব নেই। এই পদ্ধতিতে শুধু বন্ধ্যা পুরুষ মশাই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System