• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও দুর্বল হলো ডলার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক মে ২৯, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
আন্তর্জাতিক বাজারে আরও দুর্বল হলো ডলার

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার খবরে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দর আরও দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দামও কমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহজুড়েই মার্কিন মুদ্রার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে চারটি সূত্র জানিয়েছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেও জানা গেছে।

এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের চাহিদাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যদিও সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বাজারে এখনো সতর্কতা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (২৯ মে) এশিয়ার লেনদেনে ইউরোর দর দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৬৫৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় সামান্য বেশি। ব্রিটিশ পাউন্ডের দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ১ দশমিক ৩৪৪৫ ডলারে রয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ছিল শূন্য দশমিক ৭১৬৪ মার্কিন ডলার। নিউজিল্যান্ড ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৫৯৪৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি।

বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপকারী ডলার ইনডেক্স শুক্রবার ৯৮ দশমিক ৯৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা প্রায় অপরিবর্তিত। এর আগের দিন সূচকটি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল। ফলে চলতি সপ্তাহে ডলার ইনডেক্স প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।

ইউবিএস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বৈশ্বিক বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান মাসিমিলিয়ানো কাস্তেল্লি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যদি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দুর্বলতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তিনি বলেন, সংঘাত চলাকালে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদার কারণে ডলারের পতন সাময়িকভাবে থেমে ছিল। তবে এখন অনেক বিনিয়োগকারী ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে সরে এসে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারেও পড়ছে।

ডলারের দুর্বলতার সুযোগে শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। বর্তমানে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৫৯ দশমিক ২৭ ইয়েন লেনদেন হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৬০ ইয়েনের মনস্তাত্ত্বিক সীমা থেকে বাজার কিছুটা দূরে সরে এসেছে। অতীতে এই সীমা অতিক্রম করলে জাপানের কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার আপাতত অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

এসআই

Link copied!