• ঢাকা
  • শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ইরান আমাকে হত্যাচেষ্টা করলে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে: ট্রাম্প


আন্তর্জাতিক ডেস্ক জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ইরান আমাকে হত্যাচেষ্টা করলে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে: ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইরান যদি আমাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা করে, তাহলে দেশটির দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এর পর আরও হামলা চালানো হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অন্তত এক বছরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেই সময়সীমা বাড়ানোও হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলা চালানো হলে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই ধরনের মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তার মৃত্যু হলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরেই তিনি ইরানের লক্ষ্যবস্তু। তার অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে কিছু ব্যানারে ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত স্লোগান দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে ইরানের নেতৃত্ব। সোলাইমানির মৃত্যুর জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করে আসছে তেহরান।

এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি ট্রাম্পকে হত্যার নতুন একটি কথিত ইরানি পরিকল্পনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে ইসরায়েল। তবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান এখনো তাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে ফিরিয়ে আনতে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। যদিও ট্রাম্প এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, বিমান পরিবর্তনের সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এসআই

Link copied!