সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসতে যাওয়া নবম পে স্কেল দুই কিস্তিতে নয়, বরং একযোগেই পুরোটা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। মূলত অনলাইনে বেতন নির্ধারণী সফটওয়্যার ‘আইবাস++’ (iBAS++)-এর কারিগরি জটিলতা এড়ানো এবং একই সাথে অতিরিক্ত আর্থিক অপচয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্ভাব্য ক্ষোভ প্রশমন করতেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে এক ধাপে বাস্তবায়ন করা হলেও মূল পে কমিশনের প্রস্তাবিত বেতনের অঙ্ক কিছুটা কাটছাঁট বা সমন্বয় করা হতে পারে।
এই নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বর্তমানে চালু থাকা অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। তবে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চূড়ান্ত কাঠামোতে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয় করা হতে পারে:
১ম থেকে ৯ম গ্রেড: মূল বেতন বৃদ্ধি পেতে পারে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: নিম্ন ও মধ্যম পদের কর্মচারীদের স্বস্তি দিতে এই গ্রেডগুলোতে বেতন ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আজকের এই সভায় বেতন কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তাবের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। যদিও আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে কোন কোন প্রস্তাব সরকার গ্রহণ বা সংশোধন করবে, তার একটি খসড়া রোডম্যাপ তৈরি হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর মূল বেতন চলতি বছরের ১ জুলাই (২০২৬) থেকে কার্যকর হতে পারে। তবে ভাতার অংশটি ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার চিন্তাভাবনা চলছে।
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এই শক্তিশালী পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক।
এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো—জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দেওয়া প্রতিবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা। কমিটির প্রতিবেদন জমার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।
একবারে পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম জানান, "সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল প্রথম বছরেই এক ধাপে বাস্তবায়ন করা জরুরি। তা না হলে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে, যা বেতন বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করবে। বিশেষ করে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য দুই ধাপের প্রক্রিয়াটি জীবনযাত্রার ব্যয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে।"
এম







































