• ঢাকা
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ফ্রান্সজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, কী ঘটছে দেশটিতে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ফ্রান্সজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, কী ঘটছে দেশটিতে

ফ্রান্সজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং জনসেবার মানের অবনতির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সবাইকে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসির।

শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের একাংশ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এলিসি প্রাসাদ থেকে দেয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, বিক্ষোভকারীদের ‘ন্যায্য দাবির’ সঙ্গে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িতদের কর্মকাণ্ডের পার্থক্য করতে হবে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি।’

ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, এ ধরনের লাগামহীন সহিংসতার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববারও রাজধানী প্যারিস ও লিয়নের কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসে শত শত মানুষের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও শব্দসৃষ্টিকারী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়ে।

সহিংসতার সবচেয়ে বড় ক্ষতিগুলোর একটি দেখা গেছে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে। শনিবার দাঙ্গাকারীদের দেয়া আগুনে শহরটির উনিশ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক পৌর ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে ভবনটির ভেতরের অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে।

রোববার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির কাছে দাঁড়িয়ে অ্যানেইস নামের এক বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সরকারের ওপর ক্ষোভ থেকে ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস করা স্বার্থপরতার পরিচয়। এতে সবারই ক্ষতি হচ্ছে।

জেরার্ড নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য। ভবনটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে রোববার সকালে প্যারিসের বিভিন্ন দোকানের মালিকদের ভাঙা কাচ সরাতে দেখা যায়। শহরের বড় সড়কগুলো থেকে আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে কাজ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুতর সহিংস পরিস্থিতিগুলোর একটির পর দেশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

এম

Link copied!