ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ। নিবন্ধন পরীক্ষার ধারাবাহিকতা থেকে সরে এসে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে কারণে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের পরিবর্তে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ শেষে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার নিবন্ধন পরীক্ষার বদলে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন হবে নাকি ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেহেতু শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের পর সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাই নিবন্ধন পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি বোর্ড সভায় চূড়ান্ত হবে।
আসন্ন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে আগামী রোববার থেকে অনলাইনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এ কার্যক্রম ১৫ দিন চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, টেলিটকের সঙ্গে আলোচনা শেষে ই-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর অনলাইনে শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ শুরু করা হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সারা দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ১৯০টি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি পদ শূন্য রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৯২৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৮৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫০৪টি পদ শূন্য।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি পদ শূন্য। দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টি পদসহ মোট শূন্যপদ ৩ হাজার ১৩১টি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শাখায় অধ্যক্ষ ১১০টি, ভোকেশনাল সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি পদ শূন্য রয়েছে। মোট শূন্যপদ ১৯০টি।
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে পরীক্ষা কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে বিভাগভেদে নম্বর বিভাজনের প্রস্তাব থাকলেও তাতে বৈষম্যের আশঙ্কা থাকায় তিন বিভাগের জন্য একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি এনটিআরসিএর বোর্ড সভা এবং পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় চূড়ান্ত হবে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো নিবন্ধন বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালায় ভাইভার নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ১৯তম নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই বয়স গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
এসএইচ

























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)













