ফাইল ছবি
ঢাকা: দিনের শুরু হোক কিংবা অফিসের ব্যস্ততা, বন্ধুদের আড্ডা বা বিকেলের অবসর— এক কাপ চা যেন অনেকের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু টানা ৯০ দিন যদি চা না খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলেও সময়ের সঙ্গে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এতে ঘুম, শক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
যারা প্রতিদিন কয়েকবার চা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রথম এক থেকে দুই সপ্তাহ কিছুটা কঠিন হতে পারে। ক্যাফিনের অভাবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগে ঘাটতি এবং বারবার চা খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যা সাধারণত সাময়িক। কয়েকদিনের মধ্যেই শরীর ক্যাফিন ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে।
তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে অনেকেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন টের পান। সারাদিন শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। চা খাওয়ার তীব্র ইচ্ছাও ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্যাফিনের কারণে শক্তি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার প্রবণতাও অনেকটাই কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ে থাকা ক্যাফিন অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বিকেল বা রাতে চা পান করলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই চা কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে অনেকের দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়। ভালো ঘুমের কারণে দিনের বেলায় মনোযোগ, কাজের দক্ষতা এবং মানসিক অবস্থারও উন্নতি হতে পারে।
যাদের খালি পেটে দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চা ছাড়ার পর অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা হজমের নানা সমস্যা কমতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে এবং জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
টানা তিন মাস বা ৯০ দিন চা না খেলে শরীর নতুন অভ্যাসের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারে। অনেকেই জানান, তাদের ঘুম আরও গভীর হয়েছে, সারাদিন শক্তি একই রকম থাকে, ক্যাফিনের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। অতিরিক্ত ক্যাফিন কম গ্রহণ করলে হৃদ্যন্ত্রেরও উপকার হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা সম্পূর্ণ ছেড়ে দেওয়া সবার জন্য জরুরি নয়। পরিমিত পরিমাণে চা পান স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। সমস্যা তখনই হয়, যখন সারাদিনে অতিরিক্ত চা পান করা হয় বা ক্লান্তি দূর করার একমাত্র উপায় হয়ে ওঠে চা।
তাই সুস্থ থাকতে শুধু চা কমানো নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআই





























-6a397791a3645-20260622190839.jpg)









