• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯

ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ছে


নিজস্ব প্রতিবেদক  জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ০৯:১৮ এএম
ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ছে

ঢাকা: পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। আগামী মাসে সরকারের নির্বাহী আদেশে এই দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তানুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে হবে। ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটছে সরকার।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম ১৭৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হয়, যা ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। এই দাম বাড়ানোর ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১১ টাকা। এতে করে সংস্থাটির বিদ্যুৎ কেনাবেচার ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাবে। পিডিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

ওই কর্মকর্তা জানান, গত ১৮ জানুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, কেনাবেচার বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে আসে। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপ বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সার-সংক্ষেপে বিদ্যুৎ কেনাবেচায় ঘাটতি কমাতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে ইউনিটপ্রতি ব্যয় হয় ৯ টাকা। আর বিতরণ কোম্পানিগুলোর পিডিবি ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৬ টাকা ২০ পয়সা। গেল বছরের নভেম্বরে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। পরে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। বর্তমান সরকারের আমলে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১০ বার এবং গ্রাহক পর্যায়ে ১১ বার বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পিডিবির সদস্য (অর্থ) সেখ আকতার হোসেন বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। এই দাম বাড়ার কারণে আমাদের ঘাটতি ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে। ঘাটতি মোকাবিলায় কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘাটতি কমাতে দুটি উপায় আছে। একটি হলো মূল্য সমন্বয় করা এবং অন্যটি হলো সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেওয়া। এখন সরকারই ঠিক করবে কীভাবে এই ঘাটতি মোকাবিলা করবে।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১৮ জানুয়ারি বিদ্যুতে সরবরাহ করা গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পিডিবির ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাবে। এই ঘাটতি কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে হবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ভর্তুকি দেবে না। তাই ঘাটতি কমাতে দাম সমন্বয় করা হবে। এজন্য পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কত সমন্বয় বা বাড়ানো হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি জানান।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম ঘনমিটারপ্রতি ৫ টাকা দুই পয়সা। আগামী মাসে তা বেড়ে দাড়াঁবে ১৪ টাকা। প্রতি ঘনমিটারে দাম বাড়ছে ৯ টাকা। এই দাম বাড়ার কারণে মাসে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বর্তমানের চাইতে ৮০০ কোটি টাকার বেশি। পিডিবির হিসাবে, আগামী মাস (ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী বছরের (২০২৪ সাল) জুন পর্যন্ত ১৭ মাসে মোট উৎপাদন ব্যয় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বাড়বে।

পিডিবির ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে গ্যাসে মোট বিদ্যুতের ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ উৎপাদন হয়। আগামী মাসের শুরুতে নতুন দাম কার্যকরের পর গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় দাঁড়াবে ১০ টাকা ৯২ পয়সা।

এ ছাড়া আগামী মাসে বিদ্যুতে গ্যাসের সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন দামে এই পরিমাণ গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা। পরের মাস মার্চে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন দামে এই পরিমাণ গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ হবে ১ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। আগের চেয়ে এতে ব্যয় বাড়বে ৭৬৪ কোটি টাকা।

এর পরের মাস এপ্রিলে ১ হাজার ৬৪ এমএমসিএফডি, মে মাসে ১ হাজার ১৩ এমএমসিএফডি এবং জুনে ৯৯৬ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহের প্রাক্কলন করা হয়েছে। নতুন দামে এ পরিমাণ গ্যাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে যথাক্রমে ১ হাজার ২৬৫ কোটি, ১ হাজার ২০৪ কোটি ও ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলে ব্যয় বাড়বে ৮১১ কোটি টাকা, মে মাসে ৭৭২ কোটি ও জুনে ৭৬০ কোটি টাকা।

এদিকে, আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছর বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে জুলাইয়ে ১ হাজার ৪০ এমএমসিএফডি, আগস্টে ১ হাজার ৩৬, সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ১২, অক্টোবরে ৯৯৩, নভেম্বরে ৮৯৫, ডিসেম্বরে ৮৩৭, জানুয়ারিতে ৮০৩, ফেব্রুয়ারিতে ৮৪০, মার্চে ৯৩৭, এপ্রিলে ১ হাজার ৩৩, মে মাসে ৯৮৩ ও জুনে ১ হাজার ৯ এমএমসিএফডি। এতে উৎপাদনে ব্যয় বাড়বে যথাক্রমে জুলাইয়ে ৭৯৪ কোটি, আগস্টে ৭৯০ কোটি, সেপ্টেম্বরে ৭৭২ কোটি, অক্টোবরে ৭৫৮ কোটি, নভেম্বরে ৬৮৩ কোটি, ডিসেম্বরে ৬৩৮ কোটি, জানুয়ারিতে ৬১২ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৪১ কোটি, মার্চে ৭১৫ কোটি, এপ্রিলে ৭৮৮ কোটি, মে মাসে ৭৫০ ও জুনে ৭৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছর ব্যয় বাড়বে মোট ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। এতে ১৭ মাসে (চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ব্যয় বাড়বে মোট ১২ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এখানে উল্লেখ্য, গ্যাস সরবরাহ হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও কমে বাড়ে। সূত্র: কালবেলা

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School