• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

যুক্তরাষ্ট্র থেকে না ফেরায় চাকরি হারালেন উপসচিব শামীম


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ৩১, ২০২৩, ০৪:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র থেকে না ফেরায় চাকরি হারালেন উপসচিব শামীম

ঢাকা: অসদাচরণ ও বিদেশে পলায়নের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন প্রথম সচিব (উপসচিব), পাসপোর্ট ভিসা উইং হিসেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মো. শামীম হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মকালে সুরক্ষা সেবা বিভাগের একটি চিঠিতে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরপূর্বক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে ওই বিভাগে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখের ২০১৬ নম্বর স্মারকে তাকে একই তারিখ অপরাহ্ণে উক্ত কর্মস্থল থেকে অবমুক্তির পর তিনি অদ্যাবধি সুরক্ষা সেবা বিভাগে যোগদান না করায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(গ) বিধি মোতাবেক যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে রুজু করা ১২/২০২২ নম্বর বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল করলেও ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেননি। জবাবে তিনি সরকারি কর্মে তার যোগদান করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় তাকে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের অনুরোধ করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৯ আগস্ট ২০২২ তারিখে শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(গ) বিধি মোতাবেক যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে বিধিমালার ৭(৮) বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই বিধিমালার ৭(৯) বিধি মোতাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের ৮৪ নম্বর স্মারকে তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ শৃঙ্খলা-১(১) শাখার সরকারি ই-মেইল থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ তার ব্যক্তিগত ই-মেইলে পাঠানোর মাধ্যমে জারি করা হয়।

দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিল করার জন্য নির্দেশনা থাকলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মো. শামীম হোসেন কোনো জবাব দাখিল করেননি বিধায় তদন্ত প্রতিবেদনসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(গ) বিধি অনুযায়ী ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশন প্রস্তাবিত গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে।

মো. শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে রুজু করা বিভাগীয় মামলায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(গ) বিধিমোতাবেক যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন প্রস্তাবিত দণ্ডের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করায় একই বিধিমালার ৪(৩) (গ) বিধি অনুযায়ী তাকে ‘চাকরি থেকে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ফলে তাকে পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখ থেকে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড প্রদান করা হয়।

সোনালীনিউজ/এম

Wordbridge School
Link copied!