• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

গণপরিবহনে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায়, জিম্মি যাত্রীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
গণপরিবহনে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায়, জিম্মি যাত্রীরা

ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারি ভাড়া পুনর্নির্ধারণের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও অনেক রুটে চালক ও হেলপাররা নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ও নিয়মিত যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ব্যস্ত বা দূরপাল্লার রুটে এই বাড়তি ভাড়ার পরিমাণ আরও বেশি, কোথাও কোথাও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে, এমনকি কোথাও কোথাও যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শাহবাগ রুটে আগে ২০ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সায়েদাবাদ থেকে ফার্মগেট রুটে ভাড়া ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন ও শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মতে, কোনো সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানোয় দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে, অথচ আয় বাড়েনি।

আন্তজেলা পরিবহনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৫৭০ টাকা, তা এখন বেড়ে ৬২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী বাসগুলোতেও ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহন মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে নির্ধারিত ভাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আর বাস্তবসম্মত নয়। সে সময় দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ দশমিক ২০ টাকা এবং মহানগরে ২ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখন সমন্বয় করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলো বলছে, সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারণের আগেই কিছু পরিবহন সংশ্লিষ্ট পক্ষ নিজেদের মতো করে ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। তারা জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।

বাড়তি ভাড়ার প্রভাব শুধু বাসে সীমাবদ্ধ নেই। লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং সেবাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পিক আওয়ারে যাত্রী সংকটকে কাজে লাগিয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বেশি।

তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের মতে, রাজধানীর অনেক বাসই সিএনজিচালিত হওয়া সত্ত্বেও তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যাত্রীদের পক্ষে কোন যানবাহন কোন জ্বালানিতে চলছে তা যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি পরিবহন খাতে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সকাল থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটছে এবং কোথাও কোথাও তা নিয়ে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই এভাবে ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহন খাতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণে অনিশ্চয়তা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এসএইচ 

Link copied!