• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

সীমান্ত হবে শান্ত ও নিরাপদ: বিজিবি-বিএসএফের যৌথ অঙ্গীকার


নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
সীমান্ত হবে শান্ত ও নিরাপদ: বিজিবি-বিএসএফের যৌথ অঙ্গীকার

সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনার আবহ কাটিয়ে আলোচনার টেবিলেই সীমান্ত সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এই শান্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত রাখতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিজিবি ও বিএসএফ।

৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।


যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে দুই বাহিনী আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

চার দিনব্যাপী এই বৈঠকে যেসব মূল এজেন্ডা প্রাধান্য পেয়েছে-

সীমান্ত হত্যা বন্ধ: সীমান্তে যেকোনো ধরনের প্রাণহানি রোধে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা।
অপরাধ দমন: মাদক, অস্ত্র চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে কঠোর অবস্থান।
অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা: সীমান্ত এলাকার উন্নয়নমূলক অবকাঠামো নির্মাণ ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন সীমান্ত নিয়ে সংঘাত বাড়ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের এই নিয়মিত সংলাপ এবং যৌথ অঙ্গীকার দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কেবল সীমান্ত নিরাপত্তার সমীকরণে বন্দি নয়। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বহুবিধ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে আরও আশাব্যঞ্জক করে তোলে।

বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দুই বাহিনীই একমত হয়েছে যে, সীমান্তে বলপ্রয়োগের চেয়ে মানবিক আচরণ ও পারস্পরিক আস্থাই শান্তি ফেরানোর প্রধান চাবিকাঠি। দিল্লির এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো মাঠে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম

Link copied!