• ঢাকা
  • বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

পে স্কেল বাস্তবায়নে ৭টি বড় বাধা, আসল রহস্য ফাঁস


নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
পে স্কেল বাস্তবায়নে ৭টি বড় বাধা, আসল রহস্য ফাঁস

ফাইল ছবি

নতুন পে স্কেল ঘোষণা এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবন-মরণ সমস্যা। জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের গুঞ্জন শোনা গেলেও, মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কেন বারবার থমকে যাচ্ছে পে স্কেলের ফাইল? এর নেপথ্যে কি কেবলই অর্থ সংকট, নাকি রয়েছে গভীর কোনো অভ্যন্তরীণ সংকট? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন সাতটি মৌলিক কারণ, যা নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।

১. দাবিতে সমন্বয়হীনতা 
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কোনো কার্যকর সমন্বয় নেই। এক দপ্তর যখন দাবি জানাচ্ছে, অন্য দপ্তর তখন নীরব। এই বিচ্ছিন্নতা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি দুর্বল বার্তা দিচ্ছে। ফলে দাবিগুলো জোরালো কোনো ভিত্তি পাচ্ছে না।

২. নিজেদের মধ্যেই অনৈক্যে
কর্মচারীদের নিজেদের মধ্যেই বড় ধরনের মতভেদ বিদ্যমান। গ্রেড বৈষম্য দূর করা নাকি সরাসরি বেতন বৃদ্ধি-কোনটি আগে প্রয়োজন, তা নিয়ে তারা একমতে পৌঁছাতে পারছেন না। এই অভ্যন্তরীণ মিল না থাকার সুযোগটিই অনেক সময় প্রশাসন কাজে লাগাচ্ছে।

৩.সরকারের ছদ্মবেশে স্বার্থান্বেষী সংগঠন
আন্দোলনের নামে কিছু অসাধু সংগঠন তৈরি হয়েছে যারা মূলত সরকারের পক্ষ হয়ে কাজ করে। কর্মচারীদের দাবি আদায়ের মূল স্রোতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এরা লিয়াজোঁ মেইনটেইন করে। সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, এই সংগঠনগুলো আন্দোলনের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।

৪.একক প্ল্যাটফর্মের অভাব
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্দিষ্ট কোনো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে নেই। শত শত ছোট ছোট সমিতিতে বিভক্ত হওয়ায় সরকারের সাথে দরকষাকষির জন্য কোনো ‘কমন ভয়েস’ তৈরি হচ্ছে না। ফলে নীতিনির্ধারকরা সহজেই দাবিগুলো এড়িয়ে যেতে পারছেন।

৫.ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘উদাসীনতা’
অধস্তন কর্মচারীদের দাবি আদায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অভাব প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে বড় কর্মকর্তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকায় নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তেমন কোনো চাপ তৈরি করছেন না।

৬.কল্যাণ সমিতি বনাম ঐক্য পরিষদ: পাল্টাপাল্টি লড়াই
সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও পে-স্কেল বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের দ্বন্দ্বে। এই দুই সংগঠন প্রায়ই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। এক পক্ষ যখন রাজপথে নামার কথা বলছে, অন্য পক্ষ তখন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলছে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে। এই রশি টানাটানিতে সাধারণ কর্মচারীদের ভাগ্য ঝুলে আছে সুতায়।

৭.দাপ্তরিক যোগাযোগের ঘাটতি
দাবি আদায়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দপ্তরগুলোতে যেভাবে নিয়মিত এবং পেশাদার উপায়ে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন, তাতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ফাইল মুভমেন্টের তদারকিতেও পেশাদারিত্বের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। তবে কেবল বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের ভেতরের এই ‘ঘর শত্রু বিভীষণ’ কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত পে স্কেলের ফাইল লাল ফিতায় বন্দি থাকার আশঙ্কাই বেশি।

এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ কর্মচারীরা কি পারবেন নিজেদের বিভেদ ভুলে এক ছাতার নিচে দাঁড়াতে? নাকি সমন্বয়হীনতার এই গোলকধাঁধায় আরও এক বছর কেটে যাবে পুরনো বেতনেই? উত্তরটা হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকানো, তবে রাজপথের ক্ষোভ বলছে-অপেক্ষা আর দীর্ঘ করার সময় এখন আর নেই।

এসএইচ 
 

Link copied!