ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ দেশের অর্থনীতির চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ বিভাগ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের পৃথক বৈঠক শেষে এই তথ্য জানা গেছে।
চলতি মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যার জন্য বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে, সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং বাজেট ঘাটতির চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে। সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে, যা ভোগব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোলেও পে-স্কেলের পাশাপাশি ভর্তুকি কমাতে না পারা, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিনিধিদলটি সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা এবং বাড়তি ব্যয়ের অর্থ সংস্থানের সক্ষমতা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
এই সব ইস্যুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সংস্কারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে আইএমএফ সম্মান জানিয়েছে এবং নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি ও বাস্তবায়নের ধাপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার চূড়ান্ত মূল্যায়ন ভবিষ্যতের ঋণ কর্মসূচি ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এসএইচ







































-6a5180056c541-20260711030002.jpg)