• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

দশটি সংসদীয় কমিটি গঠন, সভাপতি রাখা হয়নি বিরোধী দলের কাউকে


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
দশটি সংসদীয় কমিটি গঠন, সভাপতি রাখা হয়নি বিরোধী দলের কাউকে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল থেকে কোনো কমিটির সভাপতি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বুধবার সংসদের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হয়।

বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে কমিটির সভাপতির পদ পাওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা উপেক্ষা করেছে। এভাবে কমিটি গঠন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিরোধী দল সংসদে না-ও থাকতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইয়েদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা অধিবেশন কক্ষে ছিলেন।

বুধবার দিনের শেষ কার্যসূচিতে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির প্রস্তাবে একে একে ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন শেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করতে গেলে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

তাহের বলেন, সরকারি দলের সঙ্গে বৈঠকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সদস্যপদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত মানা হলেও সভাপতির পদে তা মানা হয়নি। তাঁর দাবি, একসময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং এ জন্য তাঁদের কাছ থেকে তালিকাও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সভাপতির পদেও আমরা ২৬ শতাংশ পাব। এটা আমাদের অধিকার। সভাপতি কোন দল থেকে কতজন হবেন, সে বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে কোনো অনুপাত নির্ধারণ করা নেই।’

সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে দাবি করে তাহের বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছাই যদি সংসদের সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটি স্বৈরাচারী আচরণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সংসদকে এভাবে দেখতে চাই না। দেশের স্বার্থে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারি দল যেন সংসদে এবং সংসদের বাইরে বৈষম্য সৃষ্টি না করে।’

ভবিষ্যতে একই নীতিতে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হলে বিরোধী দল সংসদে নাও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। সভাপতির পদ না দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তাহের বলেন, ‘এর পর কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি একই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, তাহলে তখন তাঁদের কথা শোনার জন্য এই সংসদে আমরা নাও থাকতে পারি।’

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদের আসনসংখ্যার অনুপাতে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অতীতেও এমন কোনো রীতি ছিল না।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতি করার বিষয়ে সরকারি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। তবে জুলাই জাতীয় সনদে সংসদীয় চর্চায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে আসনের অনুপাতে বিরোধী দলের সদস্যদের সভাপতিত্ব দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের পর সংসদীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। তখন আসনের অনুপাতে বিরোধী দল কমিটির সভাপতির পদ পাবে। তবে সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন। এখানেই কথা বলি।’ সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সংসদে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

যেসব কমিটি গঠন

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন হুইপ রকিবুল ইসলাম। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হুইপ জি কে গউছ, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নাসের রহমান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল।

জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ-সম্পর্কিত। এ পর্যন্ত ২৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি। সংসদ-সম্পর্কিত একটি কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলীয় উপনেতাকে।

এম

Link copied!