• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভা আজ, আসছে একাধিক বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব


নিজস্ব প্রতিবেদক সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সভা আজ, আসছে একাধিক বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন চাঁদা দিতে না পারা গ্রাহকদের জন্য ‘এক্সিট প্ল্যান’, শরিয়াহভিত্তিক ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালু, পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করা এবং পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার মতো একাধিক প্রস্তাব আজকের সভায় উঠতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। পদাধিকারবলে অর্থমন্ত্রীই জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।

সভার আলোচ্যসূচিতে থাকা বিভিন্ন প্রস্তাব থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। যেসব বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন, সেগুলো অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

চার স্কিমে গ্রাহক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩২৭। বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে।

বর্তমান নিয়মে সাধারণত ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর আজীবন পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ বিশেষ ব্যবস্থায় স্কিমে যুক্ত হলে নির্ধারিত সময় চাঁদা দেওয়ার পর পেনশন পাওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে পেনশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা হিসাব এবং গ্রাহকদের চাঁদা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন চাঁদা না দিলে ‘এক্সিট প্ল্যান’

বর্তমান নিয়মে পেনশনযোগ্য বয়সের আগে সাধারণভাবে স্কিম থেকে বের হয়ে জমা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। মৃত্যু বা সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে বিশেষ বিধান রয়েছে।

এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় চাঁদা দিতে না পারা গ্রাহকদের জন্য ‘এক্সিট প্ল্যান’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক অন্তত ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে আর চাঁদা চালিয়ে যেতে না পারলে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।

তবে জমাকৃত অর্থের কত অংশ ফেরত দেওয়া হবে, মুনাফা কীভাবে হিসাব হবে এবং স্কিম থেকে বেরিয়ে গেলে ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধা কীভাবে প্রভাবিত হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পর্ষদের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা তৈরি হতে পারে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, পেনশন ব্যবস্থার কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘এক্সিট প্ল্যান’ অন্যতম।

শরিয়াহভিত্তিক ‘ইসলামী উইন্ডো’

সর্বজনীন পেনশন চালুর পর থেকেই শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের কাঠামো চালুর দাবি ছিল বিভিন্ন মহলে। এবার সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার আওতায় পৃথক ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করতে আগ্রহী নাগরিকদের জন্য আলাদা বিনিয়োগ ও মুনাফা ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে পেনশন ব্যবস্থায় নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর আগে চারটি স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর উদ্যোগের কথাও জানা গিয়েছিল। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছিল জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এবার আলাদা স্কিমের পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই ‘ইসলামী উইন্ডো’ চালুর প্রস্তাব সামনে এসেছে।

৬০ নয়, ৫৫ বছরেই পেনশন?

বর্তমানে সাধারণভাবে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে সর্বজনীন পেনশন থেকে মাসিক পেনশন পাওয়ার বিধান রয়েছে। এবার সেই বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে গ্রাহকদের পেনশন পাওয়ার অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর কমবে। বিশেষ করে তুলনামূলক বেশি বয়সে স্কিমে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি; এটি সভায় আলোচনার জন্য রাখা একটি প্রস্তাব।

পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী-স্ত্রী পাবেন আজীবন পেনশন?

বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো পেনশনার ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তাঁর নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য মাসিক পেনশন পান। অর্থাৎ এই সুবিধা বর্তমানে আজীবন নয়।

নতুন প্রস্তাবে এ নিয়মে পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। পেনশনার মারা গেলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার বিষয়টি পর্ষদের আলোচনায় উঠতে পারে।

এ ছাড়া ৭৫ বছর বয়স অতিক্রম করা পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোনো কাঠামো করা যায় কি না, সেটিও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

জমার বিপরীতে ঋণ সুবিধা বহাল

 চাঁদাদাতাদের জমা অর্থের বিপরীতে ঋণ সুবিধা চালু রাখার বিষয়টিও সভায় আলোচনায় থাকতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় একজন চাঁদাদাতা তাঁর জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন।

বাড়তে পারে নিবন্ধন কমিশন

 নতুন গ্রাহক নিবন্ধনে ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিশন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

 প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হতে পারে। একই হারে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কমিশন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আস্থার সংকট কাটাতে সংস্কারের উদ্যোগ

 সর্বজনীন পেনশন চালুর পর শুরুতে মানুষের আগ্রহ থাকলেও পরবর্তী সময়ে নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের গতি কমেছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত অনেক গ্রাহকের নিয়মিত চাঁদা প্রদান নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

 এ কারণে শুধু নতুন গ্রাহক বাড়ানো নয়, বিদ্যমান গ্রাহকদের পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে ধরে রাখতেও বিভিন্ন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এক্সিট প্ল্যান, ইসলামী উইন্ডো, নমিনির সুবিধা সম্প্রসারণ, পেনশনের বয়স কমানো এবং কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবগুলো সেই উদ্যোগের অংশ।

 জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেছেন, আগের সময়ে তৈরি হওয়া আস্থার সংকট কাটাতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এম

Link copied!