ফাইল ছবি
রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উদ্যোগে 'শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা' শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে এক দফার মূল কারিগর শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে তারা সময় কাটাতে চান। তবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের যে এক দফা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখনো আংশিক অর্জিত হয়েছে, পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আন্দোলনে সঙ্গে থাকা দলগুলোর বিরোধিতার কারণেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দফা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণেই আজও চোখ হারাতে হচ্ছে, পুলিশসহ সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং গ্রামে গ্রামে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি চলছে। সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত দুই বছরে দেশে মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি, কেবল তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তবে গত দুই বছর ধরে বিএনপি সংস্কারের বিপক্ষে ভূমিকা রেখেছে এবং বর্তমানেও আগের মতোই ঘুষ-দুর্নীতি চালু রয়েছে। শেখ হাসিনার আমলের মতো করেই এখন নতুন করে ব্যক্তিবন্দনা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শহীদরা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জীবন দেননি, দেশের পরিবর্তনের জন্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দিল্লির সঙ্গে সমঝোতা করে শেখ হাসিনাকে দেশে আনা হলে হাজারো শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা রাজপথে নেমে আসবে এবং বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে। দেশেকে আর কোনো স্বৈরতন্ত্র বা চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, মূখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম এমপিসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
এসএইচ







































