রিজিকের সন্ধানে মানুষ কত পথেই না ছুটে বেড়ায়! কেউ ব্যবসা বাড়াতে চায়, কেউ চাকরির চেষ্টা করে, কেউ নতুন কোনো আয়ের পথ খোঁজে। একজন মুমিন বিশ্বাস করে, রিজিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ।
মানুষের দায়িত্ব হলো শুধু হালাল উপায়ে চেষ্টা করা এবং রিজিকদাতার সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা। আর আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম নামাজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না; আমিই তোমাকে রিজিক দিই।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১৩২)
নামাজ বান্দাকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়, দোয়া ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের পথ খুলে দেয়। তাই ফরজ নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল নামাজ নিয়মিত আদায় করে আল্লাহর কাছে হালাল ও বরকতময় রিজিক চাওয়া মুমিনের সুন্দর আমল হতে পারে।
১. তাহাজ্জুদের নামাজ : রাতের নিস্তব্ধতা দোয়া ও মুনাজাতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সময়। মানুষ যখন গভীর ঘুমে, তখন একজন মুমিন ঘুম ছেড়ে অজু করে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়।
নিজের অভাব, ঋণ, দুশ্চিন্তা, জীবিকার সংকট ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন—সবকিছু তাঁর কাছে তুলে ধরে। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের নামাজ আদায় করতেন এবং দীর্ঘ সময় ইবাদতে কাটাতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮২০)
তাই রিজিকের বরকত কামনা করলে তাহাজ্জুদের সময় দুই, চার, ছয়, আট—সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজ পড়ে দীর্ঘ সিজদায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
২. ইশরাকের নামাজ : ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে সময় কাটিয়ে সূর্য ওঠার পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে হাদিসে এসেছে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতে ফজর আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে বসে থাকে, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, তার জন্য পূর্ণ হজ ও ওমরার সওয়াবের কথা এসেছে। তিরমিজির বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘পূর্ণ, পূর্ণ, পূর্ণ’ বলেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৫৮৬)
৩. চাশতের নামাজ বা সালাতুদ দুহা : চাশতের নামাজও রিজিকের বরকত কামনায় গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের প্রতিটি অস্থিসন্ধির ওপর প্রতিদিন সদকা রয়েছে; আর দুহার দুই রাকাত নামাজ এসব সদকার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১২৮৬)
তাই সকালবেলা কাজের ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগে দুই বা ততোধিক রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে হালাল রিজিক ও জীবনের বরকত চাওয়া যেতে পারে।
৪. সালাতুল হাজত বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ : মানুষের জীবনে প্রয়োজনের শেষ নেই। কারও ব্যবসায় সমস্যা, কারও চাকরির প্রয়োজন, কারও ঋণ, কারও সংসারের সংকট। এমন সময়ে বান্দা নিজের প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর দরবারে ফিরে যাবে—এটাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪৫)
৫. সালাতুত তাওবা : রিজিকের বরকতের ক্ষেত্রে গুনাহ থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেউ যদি নিজের গুনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়, অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। (সুনানে আবু দাউদ, ১৫২১)
তাই রিজিকের সংকটে শুধু অর্থের দরজা খোঁজার পাশাপাশি নিজের গুনাহ, হারাম উপার্জন, সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও মানুষের হক নষ্ট করা থেকে তাওবা করাও জরুরি। তাওবার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
৬. সব নফল নামাজের আগে ফরজ নামাজ আদায় করা : রিজিকে বরকতের জন্য নফল নামাজের কথা বললেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা। কেননা কেউ তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত ও হাজতের নামাজ পড়ল, অথচ ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব বা এশার ফরজ নামাজে অবহেলা করল—এটি কখনো হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরজ ইবাদত।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)
তাই রিজিকের বরকত চাইলে প্রথমে ফরজ নামাজ ঠিক করতে হবে, এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
রিজিকের জন্য নামাজের সঙ্গে যে বিশ্বাসটি জরুরি
রিজিকের ব্যাপারে সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষা হলো—চেষ্টা করব আমরা, রিজিক দেবেন আল্লাহ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না; আমিই তোমাকে রিজিক দিই।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১৩২)
এম







































