• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

কোরআনের যে ৪ আয়াতে আছে দোয়া কবুলের বিশেষ সুসংবাদ


ধর্ম ডেস্ক নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
কোরআনের যে ৪ আয়াতে আছে দোয়া কবুলের বিশেষ সুসংবাদ

মানুষের জীবনে চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। কখনো বিপদ থেকে মুক্তি, কখনো রোগমুক্তি, কখনো রিজিকের প্রশস্ততা, আবার কখনো দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় মানুষ মহান আল্লাহর দরবারে হাত তোলে।

তবে আল্লাহর কাছে দোয়া করার কিছু বিশেষ পদ্ধতি ও গুরুত্বপূর্ণ শব্দ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে দোয়া করলে কবুলের বিশেষ সুসংবাদ পাওয়া যায়। তেমনই একটি বিষয় হলো ‘ইসমে আজম’।

ইসমে আজম অর্থ আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত নাম। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর এই মহান নামের মাধ্যমে দোয়া করা হলে তিনি তা কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে কিছু প্রার্থনা করা হলে তিনি তা দান করেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, আল্লাহর সেই মহান নাম কোনটি? পবিত্র কোরআনের কোন কোন আয়াতে ইসমে আজমের উল্লেখ রয়েছে? এ সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কী জানিয়েছেন?

হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিশেষ দোয়ায় ইসমে আজমের উল্লেখ রয়েছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

১. সুরা বাকারার ১৬৩ নম্বর আয়াত : হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইসমে আজম দুটি আয়াতে রয়েছে। একটি হলো সুরা বাকারার ১৬৩ নম্বর আয়াত এবং অন্যটি সুরা আলে ইমরানের প্রথম দিকের আয়াত।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ

অর্থ : ‘আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩)

এই আয়াতে আল্লাহর একত্ব, তাঁর অসীম দয়া ও করুণার কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনিই সমগ্র সৃষ্টিজগতের একমাত্র রব ও ইলাহ।

২. সুরা আলে ইমরানের প্রথম দুই আয়াত : ইসমে আজমের উল্লেখ রয়েছে সুরা আলে ইমরানের প্রথম দুই আয়াতেও। আল্লাহ তাআলা বলেন—

الٓمّٓ ۝ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ

অর্থ : ‘আলিফ-লাম-মীম। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সমস্ত সৃষ্টির ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১-২)

এখানে আল্লাহর দুটি মহান গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে—‘আল-হাইয়্যু’ ও ‘আল-কাইয়্যুম’।

আল-হাইয়্যু অর্থ চিরঞ্জীব। তাঁর জীবন চিরন্তন; তাঁর মৃত্যু বা ধ্বংস নেই। আর আল-কাইয়্যুম অর্থ তিনি নিজে চিরস্থায়ী এবং সমগ্র সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তাঁরই ওপর নির্ভরশীল।

এই দুটি নামের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আয়াতুল কুরসিতেও আল্লাহর এই দুটি নাম এসেছে।

৩. আয়াতুল কুরসি : পবিত্র কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াতগুলোর একটি হলো আয়াতুল কুরসি। এখানেও আল্লাহর ‘আল-হাইয়্যু’ ও ‘আল-কাইয়্যুম’ নাম দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ

অর্থ : ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) ইসমে আজমের আলোচনায় তিনটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো, এক . সুরা আলে ইমরানের প্রথম দুই আয়াত। দুই. আয়াতুল কুরসি (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫) এছাড়া তিনি আরে আয়াত উল্লেখ করেছেন সেটাই হলো কোরআনে বর্ণিত ইসমে আজমের চতুর্থ আয়াত। 

৪. সুরা ত্বহার ১১১ নম্বর আয়াত। সুরা ত্বহার ১১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ ۖ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا

অর্থ : ‘সেদিন সব মুখমণ্ডল চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী সত্তার সামনে অবনত হবে। আর যে জুলুমের বোঝা বহন করবে, সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১১)

সুরা ইখলাসের মাধ্যমে ইসমে আজমের ওসিলায় দোয়া

ইসমে আজমের মর্যাদা সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে হজরত বুরাইদাহ (রা.) থেকে। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে এভাবে দোয়া করতে শুনলেন,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আল-আহাদুস সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে যে, নিশ্চয়ই তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তুমি একক, অমুখাপেক্ষী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। তুমি কাউকে জন্ম দাওনি এবং তোমাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তোমার সমতুল্য কেউ নেই।’

এই দোয়া শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওই ব্যক্তি আল্লাহর এমন মহান নামের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছে, যে নামের মাধ্যমে দোয়া করা হলে তিনি কবুল করেন এবং যে নামের মাধ্যমে কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দান করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৯৩; জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৫৭)

ইসমে আজম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়

ইসমে আজমের নির্দিষ্ট নাম নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। কেউ ‘আল্লাহ’ নামকে ইসমে আজম বলেছেন। আবার কেউ ‘আল-হাইয়্যু আল-কাইয়্যুম’ নাম দুটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া থেকেও ইসমে আজমের বিশেষ মর্যাদা প্রমাণিত হয়। তাই কোনো একটি নামকেই চূড়ান্তভাবে ইসমে আজম বলে নির্ধারণ করার পরিবর্তে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত এসব নাম ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর সুন্দরতম নামগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ডাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এম

Link copied!