রংপুর: শেষ মহুত্বেও জমে উঠে নাই ৩১ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা। সেখানে সেভাবে চোখে পড়ে নাই নির্বাচনী পোষ্টার, কানে আসে নাই মাইকের আওয়াজ। এছাড়া মিছিল-মিটিংয়েও সরগরম হয়ে ওঠে নাই নির্বাচনী এলাকার পথ-ঘাট। প্রচারণায় মাইকের গানে চেষ্টা নাই ভোটারের মন ভোলানোর। চায়ের দোকানে নাই আড্ডা, রাস্তার মোড়ে নাই জটলা এমনকি সাধারণ ভোটারের কাছে নাই ভোটের গল্প।
ইউনিয়ন ঘুরে মনে হয়েছে শীতের চাদরে ঢেকে গেছে নির্বাচনী আমেজ ও প্রচার প্রচারণা। ২০টি গ্রাম নিয়ে ৯ টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত বড় আলমপুর ইউনিয়ন। জানা গেছে, এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বিদ্বতা করছেন মোট ৪৩ জন প্রার্থী। সবারই প্রচারণা ঢিলেঢালা। অথচ প্রচারণার বাকী মাত্র একদিন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কার পরাজিত প্রার্থী মোদাব্বেরুল ইসলাম সাজু, সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলীয় পদ হারিয়ে নির্বাচন করছেন হাফিজুর রহমান সেলিম (চশমা), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মিয়া (আনারস) এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রিয়াজুল ইসলাম রনি (মোটরসাইকেল)। কোন প্রার্থীই নির্বাচনের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করতে পারে নাই। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইউনিয়নের প্রত্যান্ত পল্লী থেকে শুরু করে ছোট ছোট বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য প্রার্থীদের নির্বাচনী পোস্টার চোখে পড়ার মতো নয়। সন্যাসীর বাজারে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অন্য দু একজন প্রার্থীর নির্বাচনী কয়েকটি ব্যানার চোখে পড়েছে।
ইউনিয়নের ছোট ছোট বাজার গুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস করা হলেও কোন অফিস খোলা দেখা যায় নাই। অন্যদিকে চশমা মার্কার একটি অফিস খোলা দেখা গেলেও তাতে দুই জন অপ্রাপ্ত ছেলেকে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ইউনিয়নের বড় আলমপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে শামসুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনী মিছিল-মিটিং তো সেভাবে দেখছি না। তবে মোটর সাইকেল প্রর্তীকের ছোট-খাট মিটিং দেখেছি। তবে বড় কোনো মিছিল দেখিনি।’তাতালপুর গ্রামের চশমা প্রর্তীকের কর্মী তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মিজানুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জনগনকে গণসংযোগে সম্পৃক্ত করছিনা। আমরা একা একাই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, ভোট প্রার্থনা করছি। তবে জনগন আমাদের সাথে আছে, তার প্রতিফলন ঘটবে ভোটের দিন। ভোটের আনন্দ উচ্ছাস নিয়ে সাধারন ভোটারদের অংশগ্রহন সম্পর্কে জানতে চাইলে মোটর সাইকেল মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রনি অন্যসুরে বললেন, যেহেতু ইরি ধান রোপন চলছে তাই ভোটারদের সাথে যোগাযোগ দিনের বেলায় একটু কম হচ্ছে।
শেষ মহুত্বেও প্রচারণা কেন জমে ওঠে নাই এমন প্রশ্নে তিনি জানান, আমরা আমাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, প্রত্যেক গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোতাব্বেরুল ইসলাম সাজু বলেন, প্রচার-প্রচারণা কি করবেন, মানুষ সরকারকে ছাড়া কাকে ভোট দিবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বয়স্ক ভোটার জানালেন অন্য কথা। তিনি বললেন, এখন ভোট হয় অন্যভাবে। প্রচার প্রচারণায় এখন খরচ না করে খরচ করবে ভোটের আগের রাতে। অন্যদিকে উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নে শেষ মহুত্বেও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে প্রার্থীরা। ওই নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইউনিয়নটির বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের পথসভায় প্রার্থীরা ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছেন। গতকাল দুপুরে মিঠিপুর ইউনিয়নের ভাগজোয়ার, গবরা কুতুবপুর গ্রামে পথসভায় আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এস ফারুক আহম্মেদ বক্তব্যে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন।
তার মতই অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও সামাজিক অপরাধ নির্মুলের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন পরিষদে রুপান্তর ও জনস্বার্থে নিজেদেরকে সেবক হিসেবে নিয়োজিত রাখবেন বলে পথসভায় শপথ করছেন। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ মন্ডলও বলেন, আমিও জনতার সেবক হতে চাই। জাসদ মনোনীত মশাল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আলী সরকারও নির্বাচনে বিজয়ী হতে কোমর বেঁধে গণসংযোগ করছেন। অপরদিকে জামায়াত নেতা খাইরুল আমিন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। ইউনিয়নবাসীর সুত্রে জানা গেছে, এবারে ইউনিয়নটিতে নির্বাচনে চতুর্মুখী ভোট যুদ্ধ হবে। কেউ ইঞ্চি পরিমান ছাড় দিতে রাজি নন। সবাই মরণ কামড় দিয়েছেন।
সোনালীনিউজ/এমএ/এসআই