রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের ওপর হামলা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় প্রেরণ

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা চিকিৎসককে তার কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কয়েক দফায় মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব লাল মিয়া কাজী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার আগেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

এরপর চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতদের একটি দল হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসককে তার কক্ষ থেকে জোরপূর্বক টেনে বের করে মারধর করছে। কিল-ঘুষির একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলা থামেনি। পরে হাসপাতালের বাইরেও তাকে কয়েক দফা আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর জখম হয়।

আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র তিন মাস আগে চিকিৎসা সেবায় যোগ দিয়েছে। মানুষের সেবা করতে গিয়ে যদি এভাবে হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে চিকিৎসকরা কীভাবে নিরাপদে দায়িত্ব পালন করবেন? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিতু আক্তার বলেন, “রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে ডা. নাসির আমাকে জানান। পরে পুলিশ ও ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। হামলায় শতাধিক লোক জড়িত ছিল। আহত চিকিৎসককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ বলেন, “এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি দলের পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক, সেটা আমরা চাই না। জড়িত যে-ই হোক, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পিএস