মেহেরপুরের বাধাঁকপির বিদেশ যাত্রা, কৃষকের মুখে হাসি

  • আমিরুল ইসলাম অল্ডাম | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৩, ০৭:১৫ পিএম

মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে চলতি মৌসুমের বাঁধাকপি দেশের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রা শুরু করেছে। লোকসানের ছায়া থেকে লাভের হাতছানিতে কৃষকের মুখে ফুটেছে অনাবিল হাসি।

রাজাসান, সুপারম্যান, এটলাস-৭০, এটোম কেকে ক্রস, টফিক সান, সুপার সান, গ্রীণ বল নামধারী জাতের বাধাঁকপি চাষ করে অনেক চাষী লাভবান হয়েছে। একইভাবে নিনজা, হোয়াইট বল, একটেল ও বিগসট জাতের ফুল কপির চাষ করা হয়েছে। 

শীত মৌসুমে বাঁধাকপি ও ফুল কপি চাষ করে অসংখ্য সবজি কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে।ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে কপির চাষ। কিন্তু চলতি শীত মৌসুমের আগে গরম কালে কপির লিফ বাইট বা পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দেওয়ায় কিছু কিছু চাষি ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে কৃষকরা জানান।

গাংনী উপজেলার গাড়াডোব, সাহারবাটি, হিন্দা, মটমুড়া, হোগলবাড়িয়া, যুগিন্দা, গাড়াডোব, বাগুন্দা গ্রামের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় কপি চাষ করেছেন।

সাহারবাটি গ্রামে ব্যাপক হারে এ কপি চাষ হয়ে থাকে। প্রতিদিন সবজিখ্যাত সাহারবাটি ও আশে পাশের গ্রাম থেকে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক কপি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এক সময় এই মাঠে বালুময় জমিতে ধান-পাট ছাড়া অন্য ফসলের চাষ তেমন একটা হতো না। প্রায় ৩০ বছর আগে এ গ্রামে কপি চাষ শুরু হয়। লাভজনক আবাদ হিসেবে কপি চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে এলাকার কৃষকেরা।

এছাড়াও কপি চাষ সাহারবাটি গ্রাম থেকে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে। এ চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা বেশ লাভবানও হচ্ছেন। এখানকার উৎপাদিত কপি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে যেমন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, কাতারেও বাঁধা কপি প্যাকেটজাত হয়ে রফতানি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৫০০ হেক্টর ও ফুল কপির চাষ হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে।

শীতকালীন কপি চাষী হিন্দা গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে কপির চাষ করেছেন। এ
চাষে তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। বিঘা প্রতি জমিতে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

সাহারবাটি গ্রামের কপি চাষি সোহেল জানান, তিনি এবার ৮ বিঘা জমিতে এটোম টফিক সান জাতের কফি চাষ
করেছেন। তিনি আশা করেন বিদেশে চাহিদার তুলনায় বাজার দর ভাল হলে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা লাভ হবে।

গাড়াডোব গ্রামের কপি চাষি তৈয়ব, যুগিন্দা গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, এবার আমাদের ৪ বিঘা করে কপি
রয়েছে। জমিতে এটলাস-৭০, ট্রফিকসান জাতের কপি চাষ করেছেন এবার। বাজার দর ভাল হলে লাভবান হওয়ার আশা তাদের।

এখানকার কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যয়ের কর্মকর্তাদের পরমর্শে বছরে তিন মৌসুমে কপি চাষ করছেন চাষীরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কপি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাসেল রানা জানান, চাষীরা বর্তমানে বছরে তিনটি মৌসুমে ফুলকপি ও
বাঁধাকপি চাষ করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। মৌসুমে কিছুটা পোকামাকড়ের উপদ্রব বেশী হয়।শীতকালীন আবাদে পোকামাকড় কম থাকে। গাংনীর কৃষকদের এমন আবাদ দেখে পার্শ্ববর্তী জেলার কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

সোনালীনিউজ/আইএ