কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়ল বিরল দুইটি সেইল ফিশ

  • পটুয়াখালী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির দুইটি সেইল ফিশ, যা দ্রুততম সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। রোববার সকালে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বাজারে তোলা হলে এক নজর দেখার জন্য স্থানীয় মানুষ ও ক্রেতাদের ভিড় জমে।

মাছ দুটি মোট ওজন প্রায় ১৬০ কেজি, যা স্থানীয় হিসাবে চার মণ। বিশাল আকৃতির পৃষ্ঠীয় পাখনার কারণে এ মাছকে স্থানীয়ভাবে পাখি মাছ বা গোলপাতা নামেও ডাকা হয়।

মৎস্য আড়তদার ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জাল ফেললে অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই দুইটি সেইল ফিশ ধরা পড়ে। আকারে বড় ও বিরল হলেও উপকূলীয় এলাকায় চাহিদা কম থাকায় মাছ দুটি প্রত্যাশিত দাম পায়নি।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মোস্তাফিজ জানান, খোলা বাজারে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছ দুটি মোট ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি ১৫৬ টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেয় টিপু ফিস। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশি দামে বিক্রির আশায় মাছগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে।

মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত জেলে কামাল মাঝি বলেন, জাল টানার সময় হঠাৎ করে অন্য মাছের সঙ্গে এই বিরল দুইটি পাখি মাছ উঠে আসে। চাহিদা কম থাকায় তুলনামূলক কম দামেই বিক্রি করতে হয়েছে।

ক্রেতাদের একজন জানান, পাখি মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। এটি বিদেশেও রপ্তানি হয় এবং দেশের নামী রেস্তোরাঁগুলোতে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। মাছগুলো কেটে প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

ইকোফিশ বাংলাদেশ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, সেইল ফিশ মহাসাগরের দ্রুততম মাছগুলোর একটি। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। নৌকার পালের মতো বড় পৃষ্ঠীয় পাখনার জন্যই এর নাম সেইল ফিশ। শিকারের সময় মাছটি রং পরিবর্তন করতেও সক্ষম।

কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, পাখি মাছ মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে একে সেইল ফিশ বলা হয়। এ অঞ্চলের জেলেরা একে পাখি মাছ নামে চেনে। মাছটি সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, যা মানবদেহের জন্য উপকারী।

এসএইচ