কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহ ও সরবরাহের অভিযোগে একটি চক্রের ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিনারুল ইসলাম রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নাগেশ্বরী উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানের সময় বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
আটক মিনারুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেও জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, আটক অন্যরা হলেন— নাগেশ্বরী পৌরসভার আব্দুল হামিদের ছেলে বেলাল হোসেন (৩৮), রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চর দামালগ্রাম (পূর্বপাড়া) এলাকার ময়নালের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), পৌরসভার বিদ্যুৎপাড়া গ্রামের বাহাদুর আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৪০), খামার নকুলা বেরুবাড়ি এলাকার ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে শাহাজামাল (২৭), কাজীপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বাবু ইসলাম (৩২), বাগডাঙ্গার মৃত জয়নালের মেয়ে জান্নাতুল নাঈম মিতু (২৬), রামখানার নাখারগঞ্জ এলাকার আজিজারের ছেলে আব্দুল লতিফ (৫২), ফুলবাড়ী থানার বোয়ালভিড় ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মৃত নাজিরের ছেলে শরিফুজ্জামান (৪০), মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে হিমেল মাহমুদ (২৮) এবং মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার ইদ্রিসি মোড়লের মেয়ে চামিলি আক্তার (২৯) ও ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার ডাঙ্গালিয়া গ্রামের হারুনের ছেলে মাহাবুব খান (৩৫)।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় অসাধু উপায়ে উত্তর সংগ্রহের প্রস্তুতিকালে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যেন কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিএস