পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বোতলজাত এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার উধাও হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। ঈশ্বরদীতে চড়া মূল্যেও মিলছে না এলপি গ্যাস, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ গ্যাস বিক্রয় কেন্দ্রে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার নেই। অনেক দোকানেই গ্যাস সিলিন্ডার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কম থাকায় তারা নতুন সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আগে যেখানে সহজেই ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যেত, সেখানে এখন দিনের পর দিন খোঁজ করেও গ্যাস মিলছে না। আবার কোথাও পাওয়া গেলেও ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
পৌর এলাকার পূবটেংরী মহল্লার গৃহিণী দিলরুবা বেগম বলেন, গ্যাস না থাকায় সংসারের রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে, যা সময় সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলার মুলাডুলি এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, চড়া দাম দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গ্যাস বিক্রেতা চান্না মন্ডলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানি পর্যায়ে সরবরাহে ঘাটতি এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংকট কবে নাগাদ কাটবে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠলেও বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পিএস