সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। এক স্কুলছাত্রীকে শিক্ষাসফরের সময় শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিন সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকনকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গতকাল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জীবননগর উপজেলার হাজী মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষাসফরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি উঠে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি দুপুরে ইউএনও আল আমিন সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকনকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় ইউএনও সংবাদে একাডেমিক সুপারভাইজারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দৈনিক জনবাণী পত্রিকার জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর ইউএনও আরও উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও ইউএনও সাংবাদিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, ব্যবসা এবং সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যা প্রশাসনিক শালীনতা ও আচরণবিধির পরিপন্থী।

সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকন বলেন, তিনি দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছেন এবং সংবাদে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ইউএনও আল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আগেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ইউএনওর এমন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মতে, সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিককে ডেকে হেনস্তা করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

এসএইচ