মামার শ্যালিকার সঙ্গে প্রেম, পরিবারের আপত্তি! অতঃপর...

  • বরগুনা প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

প্রেম,পারিবারিক আপত্তি আর এক কিশোরের মর্মান্তিক পরিণতি তালতলীতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার ১৬ বছরের কিশোরের লাশ।বরগুনার তালতলী উপজেলায় পারিবারিক আপত্তিকে কেন্দ্র করে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্য। মামার শালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেওয়ায় অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে স্বাধীন (১৬) নামে এক কিশোর, এমন অভিযোগ উঠেছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে সদর উপজেলার বাধঘাট এলাকার নানির বাড়ি থেকে স্বাধীন ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্বাধীন তালতলী পাড়া এলাকার প্রদীপ দাসের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্বাধীন নিজ ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। সন্ধ্যায় নানি কিরন বালা বাড়িতে এসে নাতিকে ডাকলেও কোনো উত্তর না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ঘরের সামনের বারান্দায় আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বাধীনকে দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়।

নিহতের মা কাকলী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে আমারই ভাইয়ের শালিকা টুম্পা রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারিনি। মাসি তো মায়ের সমান এমন সম্পর্ক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ছেলেকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু এরপরও মানসিক চাপের কারণে আমার ছেলে এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নানি কিরন বালা বলেন, আমি বিকেলে বাড়ি ফিরে স্বাধীনকে ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। দরজা খুলে যা দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এরপর আর কিছু বলার শক্তি আমার নেই।

খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কিশোরের এমন করুণ মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, পারিবারিক চাপ ও সামাজিক বাধা কি তরুণদের জীবনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে?

এম