আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নুরকে শোকজ

  • পটুয়াখালী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। 

কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ স্বাক্ষরিত এই নোটিশে নুরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে নুরকে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এনামুল হকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করেছেন, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ) ও (ছ) বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। 

এ ছাড়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনা উপজেলার পাগলা বাজার সেন্টারে হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরের সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের আহত করে। এই ঘটনাটি আচরণবিধিমালার ৬ (ক) বিধির পরিপন্থি হওয়ায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনের এই নির্বাচনী লড়াই শুরু থেকেই বেশ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মো. হাসান মামুন, কিন্তু জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি এখানে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। 

অন্যদিকে নুর ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ এখনো হাসান মামুনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত, যার ফলে নুরের পক্ষে কাজ না করায় সম্প্রতি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

বর্তমানে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘাতের ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি করতে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্ধারিত সময়ে শুনানি সম্পন্ন করা যায়। 

নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে এই শোকজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। পটুয়াখালী-৩ আসনের এই লড়াই এখন কেবল দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্যের এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

এসআই