ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র কয়েক দিন দূরে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর-এই চার উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটির শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক।
প্রার্থীদের ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। সকাল আটটা থেকে গভীর রাত-কখনো ভোর পর্যন্ত-চলছে ভোটারদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ। রাস্তাঘাট, হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ঘুরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। সবার একটাই লক্ষ্য—নির্বাচনে জয়।
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে-এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। জামায়াত ও বিএনপি ছাড়া অন্য প্রার্থীদের তেমন প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
দিনাজপুর-৬ আসনে রয়েছে ৪টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়ন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৬২৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন।
নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতের আজিজুর রহমান চৌধুরী নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু জয়ী হন। ২০০১ সালে আবারও জামায়াতের আজিজুর রহমান চৌধুরী নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে ড. আজিজুল হক এবং ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় দিনাজপুর-৬ আসনে এবারে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত ও বিএনপি ছাড়াও রয়েছেন সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত আবদুল হাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. নুর আলম ছিদ্দিক এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত মো. রেজাউল করিম।
চার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহর ও গ্রামাঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন, ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
বিএনপির প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সমস্যা সমাধান, রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশিক্ষা ও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। তিনি আরও বলেন, হিলি স্থলবন্দরকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী অতীতে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং এবারও জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। তিনি বলেন, বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচিত হলে হিলি স্থলবন্দরের সড়ক প্রশস্তকরণ, রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন এবং শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নতুন প্রজন্ম আদর্শিক রাজনীতির কারণে জামায়াতকেই ভোট দেবে বলেও দাবি করেন এই প্রার্থী।
এসএইচ