আধুনিকায়ন, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের সস্তা পণ্যের দাপট এবং কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে সারাদেশের মতো ফরিদপুর থেকে মৃৎশিল্প ও মৃৎশিল্পীরা হারিয়ে যাচ্ছে ।ফলে এ অঞ্চলের মানুষ মৃৎশিল্পের ব্যবহার থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
সেই সাথে সারাবছর কাজ না থাকায় অনেকটা অলস সময় পার করছেন এই শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন। বেকারত্বের কবল থেকে মুক্তি পেতে পেশা পরিবর্তন করেছেন অনেকেই।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে কুমারপাড়ায় শত বছরের অধিক সময় ধরে এই মৃৎশিল্পের কাজ চলে আসছে। এমন একসময় ছিল যখন এই কুমারপাড়ার সব পরিবারের মৃৎশিল্পের নির্ভর করে জীবিকা চলত। কিন্তু তাদের সেই বংশীয় পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা শুরু করেছে অনেকে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বোয়ালমারী, মধুখালি, সালথাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাল পাড়া এলাকায় এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত কয়েকশ' মৃৎশিল্পীর পরিবার এখন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। বেচাবিক্রি না থাকায় তাদের হাতে কোনো কাজ নাই। এসব মাটির তৈরি খেলনা জাতীয় জিনিসগুলো বিক্রি না হওয়ায় কুমারপাড়া এখন অনেকটা নীরব। জেলার কয়েকশ' মৃৎশিল্পীর পরিবার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।
মৃৎশিল্পীরা জানান, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের জিনিসপত্র বের হওয়ার কারণে মাটির তৈরি জিনিসপত্র এখন আর আগের মতো চলে না। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের মেলা বা সামাজিক অনুষ্ঠান না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই মৃৎশিল্পীরা। আগে তেমন একটা প্লাস্টিক এবং অ্যালুমুনিয়াম জাতীয় পণ্য বাজারে না থাকায় মাটির তৈরি কলসি, হাঁড়ি,পাতিল, সরা, মটকা, ফুলের টপসহ নানা সামগ্রী বেশি বেশি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় পণ্যে বাজারে সয়লাব এবং তার দাম কম থাকায় প্রতি ঘরে ঘরে এসব সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে গেছে। যার কারণে মাটির তৈরি তৈজসপত্র এখন তেমন একটা বিক্রি হয় না। ফলে মৃৎশিল্পীরা পরিবার নিয়ে আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটচ্ছেন।
জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ঠাকুরপুর,বান্দুগ্রাম এবং বড়গা পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, এ পেশার অনেকেই এখন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ জীবিকা নির্বাহ জন্য বিভিন্ন পেশাকে বেছে নিয়েছে। যারা পেশা ছাড়তে পারেননি, তাদের অনেকেই আজ অবহেলিত, কেউ শিক্ষা-চিকিৎসাসহ জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মৃৎশিল্পী মিলন বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ পেশার শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। জেলার বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন করে মাটির জিনিসপত্রের প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা দরকার। তা না হলে মৃৎশিল্পীদের স্থান হবে শুধুই বইয়ের পাতায়।
ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্তী জানান, বর্তমানে প্লাস্টিক এবং সিলভার সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় অনেক মৃৎশিল্পীরা পেশা বদল করছে। তিনি আরও বলেন, এ পেশার শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।এমনকি জেলার বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন করে মাটির জিনিসপত্রের প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা দরকার। তা না হলে মৃৎশিল্পীরা এ পেশা থেকে হারিয়ে যাবে।
এম