মাদারীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ২২১টি, বাড়তি নিরাপত্তার আশ্বাস ডিসির

  • মাদারীপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২১টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত সতর্কতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে মাদারীপুর-৩ আসনের কালকিনি উপজেলায় কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মাদারীপুর-১ আসন ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৬, পুরুষ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ২৩ হাজার ১৯৪ জন। এ আসনে ভোটকেন্দ্র ১০২টি, এর মধ্যে ৫২টি ঝুঁকিপূর্ণ। ভোটকক্ষ রয়েছে ৫৯১টি, যার মধ্যে ৫২৭টি স্থায়ী ও ৬৫টি অস্থায়ী।

মাদারীপুর-২ (মাদারীপুর সদর-রাজৈর) আসন ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাজৈর উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রও এ তালিকায় রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৩ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৬০৩, পুরুষ ২ লাখ ২৩ হাজার ৬২২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ২৮ হাজার ৭৫৩ জন। ভোটকক্ষ ৭৮৬টি, যার মধ্যে ৭৭৮টি স্থায়ী ও ৮টি অস্থায়ী।

মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার-মাদারীপুর সদর আংশিক) আসন ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। মাদারীপুর সদর ও কালকিনির কয়েকটি কেন্দ্রও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৮, পুরুষ ২ লাখ ২ হাজার ৬৪৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ২৯ হাজার ৯৫০ জন। মোট ভোটকক্ষ ৭২২টি, যার মধ্যে ৬৭৪টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং প্রার্থীদের অবস্থান বিবেচনায় বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অতিগুরুত্বপূর্ণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ—সব কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বডি অন ক্যামেরা সংযুক্ত করা হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসএইচ